মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, 2০২1
দুর্ঘটনার আশংকা নাঙ্গলকোট সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম
Published : Wednesday, 18 November, 2020 at 8:01 PM

কুমিল্লা প্রতিনিধি ॥
নাঙ্গলকোট সাব রেজিস্টার অফিসের জরাজীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী, দলিল লেখক ও দলিল দাতা-গ্রহীতাগণ। যে কোন মুহুর্তে ভবনটি ধ্বসে পড়ে প্রাণহানীর আশংকা থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত তারা এ ভবনে কাজ করছেন।
জরাজীর্ণ ভবনটিতে বৃষ্টির পানি পড়ে  দলিলসহ মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ট হচ্ছে। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাব রেজিস্টার অফিস ভবন নির্মাণের জন্য পৌরসভার পূর্ব দৈয়ারা মৌজায় ভূমি অধিগ্রহনের অনুমোদন দেন। অথচ  বিগত দুই বছরেও জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। এদিকে, পূর্ব দৈয়ারায় সাব রেজিস্টার ভবন স্থাপনের ক্ষেত্রে দলিল লেখক ও দাতা-গ্রহীতারা দ্বিমত পোষন করে আসছেন। তাদের মতে, সাব রেজিস্টার ভবন নির্মাণের স্থানটি উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দুবরর্তী হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। তারা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন  স্থানে দেয়া সম্পত্তিতে সাব রেজিস্টার ভবন নিমার্ণের দাবি জানান।
সরেজমিনে ভবনটি ঘুরে দেখা যায়, এক কক্ষ বিশিষ্ট জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্যাওলা পরা এবং স্যাঁতস্যাতে  সাব রেজিস্টার অফিস ভবনের ছাদ এবং দেয়ালের ইট, সুরকি ও পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদের পলেস্তারা নিয়মিত খসে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে রড বের হয়ে আছে। ভবনটির পিছনের দেয়াল ধ্বসে পড়ায় সাব রেজিস্টারের বসার স্থানের পিছনে টিন দিয়ে বেড়া দেয়া হয়েছে। পাশে বৃষ্টির পানি থেকে দলিলপত্র রক্ষায় পলিথিন দেয়া হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানি পড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও নষ্ট হতে দেখা যায়। রুম সংকটে সাব রেজিস্টারের চারদিকে দলিলপত্র স্তুপ করে রাখা হয়েছে। অফিসের নিচে কর্মচারীরা গাদাগাদিভাবে বসে কাজ করছেন। স্থান সংকুলানের অভাবে দলিল সম্পাদন করতে আসা দাতা-গ্রহীতা ও দলিল লেখকদের কোনভাবে দাঁড়িয়ে দলিল সম্পাদনের কাজ সারতে হয়। ভবনের বারান্দায় টিনের বেড়া দিয়ে নকল নবিশদের দমবন্ধ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে একটি শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সাব রেজিস্টার ভবন নির্মাণের জন্য নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে পৌরসভার পূর্ব দৈয়ারা মৌজায় নজরুল ইসলাম সুজন ৩৩শতক সম্পত্তি প্রদান করেন। তাছাড়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হরিপুর মৌজায়  আবদুল সালাম গংরা ৪১ শতক সম্পত্তি প্রদান করেন। ২০১৮ সালের ২০ মার্চ তৎকালীন সাব রেজিস্টার মজিবুর রহমান হরিপুর মৌজার আবদুল সালামদের দেয়া সম্পত্তিতে সাব রেজিস্টার ভবন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করেন। কিন্তু পূর্ব দৈয়ারা মৌজায়  সুজনের দেয়া সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণের জন্য তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি সুপারিশ করেন। পরে জেলা রেজিস্টার উভয় আবেদনকারীর যৌক্তিকতা বর্ণনা করে আই জি আর এর বরাবরে চিঠি প্রেরণ করেন। ফলে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর পূর্ব দৈয়ারা মৌজার ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা অনুমোদন করে। জেলা রেজিস্টার ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক কুমিল্লা বরাবরে উক্ত ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি প্রদান করে। কিন্তু গত দুই বছরেও ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়নি।
দলিল দাতা ও গ্রহীতা নুর আহম্মদ ভুঁইয়া, বাচ্চু মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, নজির আহম্মেদ, রুবেল মিয়া ও ইয়াছিন মিয়া বলেন, হরিপুর মৌজায় উপজেলা পরিষদ ভবন ও থানা সন্নিকটে হওয়ায় সহজ যাতায়াত এবং নিরাপদে আমরা দলিল সম্পাদন করতে পারবো।    
নাঙ্গলকোট দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোলায়মান মিয়া বলেন, সাব রেজিস্টার ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় যে কোন মুহুর্তে ধ্বসে পড়ে প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। এছাড়া স্যাঁতস্যাতে ভবন এবং বৃষ্টির পানি পড়ায় মূল্যবান দলিলপত্র নষ্ট হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা অন্যত্র স্থানান্তর করা যেতে পারে।
উপজেলা সাব রেজিস্টার আবু বক্কর ছিদ্দীক বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বর্ষায় বৃষ্টির পানি এবং স্যাঁতস্যাতে পরিবেশে মূল্যবান দলিলপত্র নষ্ট হচ্ছে। কাজের পরিবেশ নেই।  প্রয়োজনে অফিসটি ভাড়ায় অন্যত্র স্থানান্তর অথবা পাশে ভবনটি বর্ধিতকরণ  করা যেতে পারে। বর্তমানে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শুভাশিষ বোষ বলেন, জেলা রেজিস্টার থেকে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য আমাদের শুধুমাত্র প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে আমাদেরকে কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে কোন চিঠি দেয় নাই। যার ফলে এনিয়ে কোন কেস ফাইল না হওয়ায় ভূমি অধিগ্রহণের কোন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। জেলা রেজিস্টার আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমার বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ভূমি অধিগ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবো।
কুমিল্লা জেলা রেজিস্টার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ) আশরাফুজ্জামান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে কাগজপত্র দেখে কি করা যায় আমি দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি