বুধবার, ১৭ আগস্ট, 2০২2
৪ কর্মচারীর সিন্ডিকেটেই নিয়ন্ত্রন করেছেন ফেনী পাসপোর্ট অফিস
Published : Sunday, 19 June, 2022 at 10:03 PM

শহর প্রতিনিধি
 ফেনীতে পাসপোর্ট নিয়ে জাল-জালিয়াতির রমরমা কারবার। পাসপোর্ট অফিসের ৪ কর্মচারী কর্মকর্তার চোখে ধুলা দিয়ে ভুয়া সিল-প্যাড
ব্যবহার করে তৈরি হয় যাবতীয় নকল কাগজপত্র। টাকার বিনিময়ে সহজেই মেলে পাসপোর্ট। শহরের ১০ ট্রাভেল এজেন্ট ও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনের দোকানঘর ঘিরেই তৎপর পাসপোর্ট দালাল চক্রের সদস্যরা। সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দুর্নীতি বাজ এসব কর্মচারীর নাম। অফিস শেষে তালিকা দরে তাদের হৃন্য ব্যবহার করা ট্রাভেল থেকে দৈনিক টাকা তুলে আনেন তাদের এক প্রতিনিধি।

ফেনী পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক সাধন সাহা এ অফিসের ঘুসবাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেন। তবে দালালদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করে বলেন এখন কোন দালান নেই। ফেনী পুলিশের বিশেষ অভিযানে অনেক দালাল আটক হয়েছে। কোন কর্মচারীকে এ সকল কাজে জড়িত থাকার প্রমান মিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আমার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দালাল নির্মূলে অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
খোজনিয়ে জানা গেছে, ফেনীতে এসিন্ডিকেটের চিহ্নিত দালালরা নিজেদের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের রেজিস্ট্রার্ড এজেন্ট বলে পরিচয় দেন। বেশির ভাগ পাসপোর্ট প্রত্যাশী ই-পাসপোর্টের ফরম পূরণ করতে গিয়ে এদের ফাঁদে পড়ছেন।

দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন তারা। চুক্তি না হলে বিড়ম্বনার শিকার হবেন বলেও জানান। কর্মচারী সিন্ডিকেট বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেন। সিরিয়াল ছাড়া আবেদন জমা করতে ৫ থেকে ১৫ হাজার, পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট পেতে ১৫ থেকে ২০ হাজার, নামের বানান সংশোধনে সর্বনিম্ন ২৫- ৩০ হাজার এবং জন্মতারিখ সংশোধন ও নামপরিবর্তন বা ভুয়া নাম-ঠিকানায় জাল পাসপোর্ট তৈরি, আঙুলের ছাপ জালিয়াতি (মিস ফিঙ্গারিং) ইত্যাদি কাজ বাবদ ৩০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শহরের একাধিক ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে কথা বলে জানাযায় ফেনী পাসপোট অফিসের অফিস সহকারী মাফতুল হোসেনের কোর্ড নং- (ডি ওয়া), ডাটা এন্ট্রি আপারেটর সাইফুল ইসলামের কোর্ড নং- (ডাক্তার নাজিম উদ্দিন), অফিস সহকারী আবুল কালাম আজাদের কোর্ড নং- (আবুল হোসেন) ও রেকর্ড কিপার মোঃ ইসমাইলের কোর্ড নং- (এ এল) এসকল সংকেতিক হৃন্য দিয়ে সিন্ডি কেটের নামে এ অফিসে প্রতি দিন গড়ে ৫০/৬০টি পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ে বলে জানান সিন্ডিকেটের মাঠেথাকা একাদিক কর্মীরা।

তারা বলেন অনলাইনে পূরণ করা পাসপোর্টের ফরমের ওপর ওইসব এজেন্টের সিল দেওয়া হয়। এসকল হৃন্য থাকলে পাসপোর্ট অফিসের লোকজন বুঝতে পারেন এটি তাদের তালিকার সিল। প্রতিদিন বিকালে সাবেক আনসার সদস্য মোঃ লিটন তালিকা ধরে প্রতি জমা আবেদনের জন্য এক হাজার ২০০ টাকা করে নিয়ে যান। সেই টাকা বুঝিয়ে দেন অফিসের সিন্ডিকেটে দের হাতে । তাদের মাধ্যমে অফিসের অন্য সদস্যদের টাকার হিস্যা অনুপাতে বণ্টন করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শতে একাধিক অফিস কর্মচারী বলছে, বর্তমানে এখানে সিন্ডিকেট নেটওয়ার্কটির দায়িত্ব পালন করছেন অফিস সহকারী মাফতুল হোসেন ও ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোলার অপারেটর সাইফুল লতিফ গংরা। সহকারী পরিচালক শত চেষ্টা করেও তাদেরকে নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছেনা। মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এ চক্রটি ঘুসবাণিজ্য চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 অফিস সহকারী মাফতুল বলেন, আমার কোন সাংকৃতিক নাম্বার নেই। কেউ কেউ হয়তো করতে পারে। কিছু ট্রাভেল এজেন্ট আমাদের জন্য মাঝে মধ্যে কিছু খরছের টাক দেন। এ ব্যাপারে জানতে অপারেটর সাইফুল লতিফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা ধরেননি।
সাবেক আনসার সদস্য লিটন বলেন, আমার কোন নিয়মিত চাকুরী নেই,কয়েক জন স্যাররা আমাকে বিভিন্ন কাজে আমাকে ব্যবহার করছে।
আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারী।   ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গোলাম কিবরীয়া হাজারী বিটু্।   প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী।
সহ সম্পাদক- রুবেল হাসান: ০১৮৩২৯৯২৪১২।  বার্তা সম্পাদক : জসীম উদ্দিন : ০১৭২৪১২৭৫১৬।  সার্কুলেশন ম্যানেজার : আরিফ হোসেন জয়, মোবাইল ঃ ০১৮৪০০৯৮৫২১।  রিপোর্টার: ইফাত হোসেন চৌধুরী: ০১৬৭৭১৫০২৮৭।  রিপোর্টার: নাসির উদ্দিন হাজারী পিটু: ০১৯৭৮৭৬৯৭৪৭।  মফস্বল সম্পাদক: রাসেল: মোবা:০১৭১১০৩২২৪৭   প্রকাশক কর্তৃক ফ্ল্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।  বার্তা, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ০২-৪১০২০০৬৪।  ই-মেইল : [email protected], web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি