বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, 2০২2
ফেনীতে গণধর্ষনের শিকার কিশোরীর পরিবার ১৯ বছর ভিটেমাটি ছাড়া
Published : Sunday, 24 July, 2022 at 7:19 PM

চারদলীয় সরকারের ক্যাডারের হাতে গনধর্ষনের শিকার ফেনীর কিশোরীর পরিবার ১৯ বছর পর রায় ভিটেমাটি ছাড়া, নিরাপত্তাহিনতার পালিয়ে বেড়াচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার
ফেনী প্রতিনিধি ॥
 ধর্ষন মামলর রায়ে প্রধাম আসামিকে খালাস পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও জানমালের নিরাপত্তা না থাকায় এখনো বাড়ী ফিরতে নারাজ ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবার। দীর্ঘ ১৯ বছর পরও মামলার বাদি জানমালের নিরাপত্তার কারনে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মামলার বাদী। বিটে-মাটি হারিয়ে পালিয়ে দিন কাটছে তাদের।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার গত ১৪ জুলাই ধর্ষণ মামলার ১৯ বছর পর ৩ জনকে মৃত্যুদন্ড ও একইসাথে প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।  মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন আবুল কাশেম, মো. লাতু ও জাহাঙ্গীর আলম। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় অভিযোগ পত্রের প্রধান আসামী মোহাম্মদ ফারুককে এ মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়। মামলার রায়ের খবরও জানতেন না কিশোরীর পরিবার।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও এখনো বাড়ী ফিরতে নারাজ কিশোরীর পরিবার। কিশোরীর ভাই ( পলাশ চন্দ্র দাস ) বলেন, আবার যদি কখনো বিএনপি সরকার আসে তাহলে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা আমাদের মেরে ফেলবে। কারন দন্ডপ্রাপ্তরা এখনো আটক হয়নি। এলাকায় বসবাস করলেও পুলিশের ভাষায় তারা পলাতক।

২০০৩ সালের ১৩ মে রাত অনুমান ২টা। স্বামী ও  ২ সন্তান নিয়ে নিজ বসত ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন ৫ মাসের অন্তসত্বা কৃষ্ণা বালা দাস। হঠাৎ ঘরের দরজায় ঠুকঠাক শব্দ। দরজা খোলার জন্য সজোরে করছে আঘাত। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে তারা। বাধ্য হয়ে দরজার পাটাতন খুলে দেখি মুর্তমান আতংক হয়ে দাড়িয়ে আছে করে স্থানীয় চিহ্নিত বিএনপি দলীয় ক্যাডাররা। ঘরের ভিতরে ঢুকে প্রথমে এতক্ষন কেন দরজা খুলিসনি বলে আঘাত করতে থাকে আমার অসুস্থ্য স্বামী নেপাল চন্দ দাসকে। পিতাকে পিটুনি থেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেন আমার কিশোরী মেয়ে লাভলী দাস (ছদ্ম নাম)। মেয়ের বাঁধা পেয়ে তারা আমার স্বামীকে এনে লোহার রড় দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। তাদের আঘাতে আমার স্বামী ঘাঁড়ে মারাত্মক জখম পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে পেলে।

ওই সময় ঘরের ভিতর থেকে বাঁচানোর জন্য আমরা চিৎকার শুরু করলে হামলা কারীরা কিশোরী মেয়ের উপর হামলে পড়েন। মেয়ের ইজ্জত ভিক্ষা চেয়ে তাদের পায়ে পড়লেও গলেনি তাদের পাষান মন। এক পর্যায়ে মেয়ের মুখ চেপে ধরে তারা পাশের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্ধায় নিয়ে যায়। প্রানের মায়া ত্যাগ করে মেয়েকে বাচাঁতে তাদের পিছনে পিছনে গেলে তারা বেঁধে ফেলে মায়ের সামনে তারা মেয়ের ইজ্জত কেড়ে নেয়। এভাবেই প্রতিবেদকের কাছে নির্যাতনের বর্ণণা দিচ্ছিলেন গনধর্ষনের শিকার কিশোরীর মা কৃষ্ণা বালা দাস।

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ঘটনার পর  ধর্ষকরা মুখ না খুলতে হুমকি দিয়ে বলেন- কাউকে জানালে স্বপরিবারে পুড়িয়ে হত্যা করা হবে। সকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের সহযোগীতায় এগিয়ে আসেন। তিনমাসপরে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আমি চার জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করি। পাশবিক নির্যাতনে অসুস্থ্য মেয়ে ও ধর্ষকদের পিটুনীতে গুরতর জখম স্বামীকে চিকিৎসার অবাবে মৃত্যু হয়। এদিকে মামলার খবর পেয়ে ধর্ষকরা বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেন। স্বামীর কাপন-দাফন শেষ করে বাড়ি থেকে ফালিয়ে যেতে বাধ্যহই। হামলা ও গনধর্ষনের ঘটনায় যাদেরকে চিনতে পেরেছিলাম তারা হলেন নবাবপুর ইউনিয়নের রসুল আহম্মদের ছেলে তৎকালিন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক ,ফকির আহমদের ছেলে আবুল কাশেম, আবদুর রশিদের ছেলে মো. লাতু ও আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।

 মামলাটি যেন কাল হল কিশোরীর পরিবারের। সামাজিক প্রথায় লোকলজ্জা ও প্রতিনিয়ত হুমকি, ধমকি এবং আতংকের মধ্যে নিজের বসতবাড়ি ছেড়ে স্বপরিবারে চলে যান রাঙ্গামাটি। সেই যে বাড়ি ছাড়া হয়েছে ১৯ বছরেও বাড়িতে ফেরা হয়নি তাদের। প্রশাসনের সহযোগিতায় একদিন আদালতে সাক্ষী দিতে আসাহয়।আদালতে প্রভাবশালীদের হুমকিতে প্রধান অভিযুক্ত ফারুকের বিরুদ্ধে সত্য সাক্ষি দিতে পারেনি। আইনজীবি নিয়োগ দিতে পারেননি টাকার অভাবে। রাষ্ট্রপক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) ফরিদ আহমদ হাজারী মামলাটি পরিচালনা করেন।

পলাশ চন্দ্র দাস বলেন , ২০০১সালে আমার বাবার নৌকায় ভোট দেয়ায় আমাদের পরিবারের উপর টর্নেডো নেমে আসে। বাবাকে পিটিয়েহত্য করা হয়েছে। বোনকে গনধর্ষন করেছে। থানায় মামলা দিতে পারিনি। তিনমাস পর বোনের ধর্ষনের ঘটনায় মামলা হলেও বাবাকে হত্যার ঘটনায় কোন মামলা হয়নি । দীর্ঘ ১৯বছর কেউ আমার পরিবারের খোঁজ নেয়নি। মা বোনদের নিয়ে জেলায় জেলায় পালিয়ে বেড়াইছি। কাউকে পাশে পাইনি।

ফেনী জেলার সিনিয়র আইনজিবী অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্না বলেন ধর্ষীতা পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রধান আসামী খালাস বিষয়ে বলেন এটি প্রমান করার দায়িতও ছিলো রাষ্ট্রেপক্ষের। আমার আইন পেশার ইতিহাসে এমন রায় আমি শুনিনি।
বাংলাদেশ মানবঅধিকার (বামাস) ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বলেন মামলার বাদী পড়ালিখা জানতোনা ও হতদরিদ্র পরিবার। তাই এ মামলা রাষ্ট্রিয় খরছে চলতো। মালার ৪ আসামিকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ও সাজা নিশ্চিতের দায়িত্ব ছিলো রাষ্ট্র পক্ষের। রাষ্ট্রপক্ষের খামখেয়ালির কারনে অভিযোগ প্রত্রের প্রধান আসামী খালাস পেয়েছেন। উচ্চ আদালতে আফিল করলে ধর্ষীতা এর বিচার পাবেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবী সোনাগাজী উপজেলা আ’লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক তাজুল ইসলাম (বিপুল) জানান আমি আদালতে আমার আসামিকে নিরঅপরাধ প্রমান করতে সক্ষম হয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমার মোক্কেল খালাস পেয়েছে।






আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারী।   ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গোলাম কিবরীয়া হাজারী বিটু্।   প্রকাশক: মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী।
সহ সম্পাদক- রুবেল হাসান: ০১৮৩২৯৯২৪১২।  বার্তা সম্পাদক : জসীম উদ্দিন : ০১৭২৪১২৭৫১৬।  সার্কুলেশন ম্যানেজার : আরিফ হোসেন জয়, মোবাইল ঃ ০১৮৪০০৯৮৫২১।  রিপোর্টার: ইফাত হোসেন চৌধুরী: ০১৬৭৭১৫০২৮৭।  রিপোর্টার: নাসির উদ্দিন হাজারী পিটু: ০১৯৭৮৭৬৯৭৪৭।  মফস্বল সম্পাদক: রাসেল: মোবা:০১৭১১০৩২২৪৭   প্রকাশক কর্তৃক ফ্ল্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।  বার্তা, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: ০২-৪১০২০০৬৪।  ই-মেইল : [email protected], web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি