শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮
শিক্ষার উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই
ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
Published : Friday, 12 January, 2018 at 9:06 PM

শিক্ষার উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেইশিক্ষা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। শিক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হয়েছে প্রচুর। তবে আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তব ও কার্যকরভিত্তিক শিক্ষার স্বরূপ এখনও পর্যন্ত নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এর প্রধান কারণ, শিক্ষা নিয়ে যে প্রকৃত গবেষণার দরকার ছিল তার সংস্কৃতি এখনও পর্যন্ত গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আর শিক্ষা যে গবেষণার বিষয়বস্তু হতে পারে সে বিষয়ে আমাদের ধারণাও অনেক কম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার সব স্তরে শিক্ষাসংক্রান্ত ধারাবাহিক গবেষণাকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন রিসার্চ যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ ও তার সমাধানের ক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে অবদান রাখে। শিশুদের শিক্ষার গুণগত মান কিভাবে বজায় রাখা যায়, কিভাবে কম ও অধিক মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স সমস্তরে নিয়ে আসা যায়, কিভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূলক অর্জনে উন্নতি ঘটানো যায়, কিভাবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অ্যাক্সেস বৃদ্ধি এবং সুযোগ সৃষ্টি করা যায় এসব বিষয়ে এই প্রতিষ্ঠান গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এদের গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম, এর চর্চা ও পরিকল্পনাকে কিভাবে সময়ের সঙ্গে গতিশীল করা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহার ও মূল্যায়ন পদ্ধতিকে কিভাবে গ্রহণযোগ্য করা যায়- এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ, পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
অ্যামেরিকান এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন (এএআরএ) একটি জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যারা শিক্ষা উন্নয়নের জন্য শিক্ষাসংক্রান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে মানুষকে উৎসাহিত করে, শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে এবং নাগরিকদের কল্যাণের জন্য শিক্ষাবিষয়ক গবেষণার ফলাফল শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এডুকেশন রিসার্চ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার সামাজিক দিকগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয়, আর শিক্ষাক্ষেত্রে সমাজের যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে তা সমাধানের প্রচেষ্টা চালানো হয়। ব্রিটিশ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন মনে করে বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নির্ভর করে গুণগত ও উচ্চমানের শিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণার ওপর। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষা একটি নির্দিষ্ট দর্শন দ্বারা পরিচালিত হয়, যেখানে শিক্ষাকে প্রকৃত অর্থে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এ কারণে এই রিসার্চ সংস্থাটি ক্রিটিক্যাল এনালাইসিস ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন শিক্ষানীতি, অনুশীলন ও তার মূল্যায়নের পদ্ধতি বের করে সেটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আলোচনা ও বিশ্লেষণ করে গবেষণালব্ধ নতুন ধারণার প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করে। এটি শিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণাকে উৎসাহিত করে। ইউরোপিয়ান এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা গবেষকদের গ্রুপ রিসার্চ করতে অনুপ্রাণিত করে। শিক্ষাবিষয়ক গবেষকদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপের কাউন্সিল অব এডুকেশন, ওইসিডি এবং ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাসংক্রান্ত রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্সটিটিউটের মধ্যে একসঙ্গে শিক্ষার গবেষণায় যুক্ত হতে সাহায্য করে। আর এগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ, তার প্রচার ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রদান করে। শিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণায় শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মৌলিক ও ফলিত বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যেতে পারে। এই গবেষণায় শিক্ষার বিভিন্ন দিক যেমন- শিক্ষণ শিখন, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণীকক্ষের পরিবর্তনশীলতাসহ অনেক ক্রিটিকাল ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
শিক্ষা গবেষণার বিষয়টি সম্পন্ন হয়ে থাকে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে। তবে শিক্ষা গবেষণা হতে হবে বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, যাতে এর গবেষণার গুণগত মান ও ফলাফল গ্রহণযোগ্য হয়। শিক্ষা গবেষকরাও এ বিষয়ে একমত যে, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট গবেষণা হতে হবে যথাযথ। দু’ভাবে গবেষণা প্রক্রিয়া অনুসৃত হতে পারে এবং তা হল কোয়ান্টিটেটিভ ও কোয়ালিটেটিভ। গুণগত বা কোয়ালিটেটিভ গবেষণার প্রকৃতি বর্ণনামূলক হয় যেখানে অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ধরনের গবেষণাগুলো পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য মাধ্যম যেমন- জার্নাল, ডায়েরি, চিত্র বা ব্লগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে যে মেথডগুলো গবেষণা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয় তা হল কেস স্টাডি, এথনোগ্রাফি, ঘটনাগত গবেষণা, বর্ণনামূলক গবেষণা ও ঐতিহাসিক গবেষণা। পরিমাণগত বা কোয়ান্টিটেটিভ গবেষণা সংখ্যাসূচক বা গাণিতিক তথ্য ব্যবহার করে এবং তথ্য ও উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাসংক্রান্ত সংখ্যাতাত্ত্বিক উপাদানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা করা হয়। কোয়ান্টিটেটিভ গবেষণার পদ্ধতিগুলো হল বর্ণনামূলক জরিপ গবেষণা, পরীক্ষামূলক গবেষণা, সিঙ্গেল উপাদানভিত্তিক গবেষণা, তুলনামূলক গবেষণা, কো-রিলেশন সম্পর্কিত গবেষণা ও মেটা-ডাটা বিশ্লেষণ। গ্যারি এন্ডারসন শিক্ষা গবেষণার দশটি দিক চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হল : শিক্ষাভিত্তিক গবেষণার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষাসংক্রান্ত যে কোনো জটিল সমস্যার সমাধান করা। এ ধরনের গবেষণায় প্রচলিত ও নতুন তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং তা থেকে অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার নতুন ধারণা উদ্ভাবনে সহায়তা করে। শিক্ষা গবেষণা হতে হবে অভিজ্ঞতা বা প্রায়োগিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করে। গবেষণা সঠিক পর্যবেক্ষণ ও তার যথার্থ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হওয়া দরকার। গবেষণা সাধারণত সুসংবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করে হতে হবে। এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার সাধারণ নীতিমালা ও তত্ত্বের উদ্ভাবন করাকে প্রাধান্য দেয়া হয়, যাতে করে শিক্ষাকে গভীরভাবে বোঝার, বিষয়টি নিয়ে ভাবার ও মানের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। যাদের শিক্ষা গবেষণার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আছে, পদ্ধতি প্রয়োগের যোগ্যতা আছে এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে প্রযুক্তিগত দক্ষতা আছে, তাদের দ্বারাই এ ধরনের গবেষণাগুলো ফলপ্রসূ হতে পারে। গবেষণার মাধ্যমে কোনো একটি উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এটি প্রভাবমুক্ত ও যাচাই করার মতো উপযুক্ত হতে হবে। এটি নির্দেশনামূলক হতে হবে, যেখানে সমস্যা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফল অর্জিত হবে। গবেষণাটি সতর্কতার সঙ্গে নথিভুক্ত এবং সমস্যার প্রতি আগ্রহী অন্য ব্যক্তিদের কাছে তা প্রয়োগের জন্য প্রকাশ করতে হবে। ইউলি রাহমায়াতি শিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে তার মতামত ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, জ্ঞানের উন্নয়ন, শিক্ষার ব্যবহারিক উৎকর্ষ ও নীতিমালা সংক্রান্ত তথ্য এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে বের হয়ে আসে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই গবেষণার ফলাফল বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে নিজেদের দক্ষতা, শিক্ষাদান ও শেখার ক্ষেত্রে নিজেদের সমৃদ্ধ করে। বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানই শিক্ষা নিয়ে গবেষণার প্রয়াস চালাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগ ব্র্যাক, প্ল্যান বাংলাদেশ, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম), বিআইডিএস, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, গণসাক্ষরতা অভিযান, শিক্ষা সংবাদ (চ্যানেল আই’র নিয়মিত শিক্ষা নিয়ে গবেষণা সংবাদ) ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে ফলপ্রসূ কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট। সেখানে থিসিস ওয়ার্কের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করাই শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের মুখ্য উদ্দেশ্য। এখানে যে বিষয়গুলো পড়ানো হয় সেগুলো হল শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষার ভিত্তি, নন-ফরমাল এডুকেশন, শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষাক্রম, জেন্ডার এডুকেশন, শিক্ষা গবেষণা, শিক্ষা মনোবিজ্ঞান, কম্পিউটার, বাংলা ও ইংরেজি। একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলাই এ শিক্ষার লক্ষ্য। তবে এই প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য মৌলিক ও ফলিত গবেষণার ফলাফল সমন্ধে সাধারণ মানুষের তেমন একটা ধারণা নেই। কাজেই কিভাবে এ ধরনের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে।
শিক্ষা গবেষণা ও শিক্ষা গবেষকের গুরুত্ব অনুধাবন করে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নরওয়ে, কোরিয়া ইত্যাদি দেশে শিক্ষা নিয়ে পড়ার জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। বিষয়টি আমাদের দেশেও ভাবা যেতে পারে। কারণ গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার ভিত্তি গড়ে না উঠলে শিক্ষার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করে রাষ্ট্র উন্নয়নে দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি গড়ে তোলা যায় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্রটি আমাদের দেশে এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। আর যেটুকু গবেষণা হচ্ছে তারও শিক্ষাক্ষেত্রে সেভাবে বাস্তব প্রয়োগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমরা যত বেশি আলোচনা করছি, শিক্ষা গবেষণা নিয়ে সেভাবে কোনো আলোচনা নেই। শিক্ষানীতি যদি দীর্ঘ সময়ে ধারাবাহিক গবেষণার ফলাফলের ওপর বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রণীত হতো তবে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতো না। কাজেই আজ সময়ের প্রয়োজনেই শিক্ষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য শিক্ষা গবেষণার জাতীয় নীতিমালা প্রণীত হওয়া দরকার। বহুমাত্রিক শিক্ষাকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত করে আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারাকে বজায় রেখে শিক্ষা গবেষণাকে অনুপ্রাণিত করা উচিত। আর এজন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদদের শিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণা করার জন্য জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা দরকার। শিক্ষা গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা উদ্ভাবন মেলা আয়োজন করার মতো সংস্কৃতি গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখান থেকে শিক্ষা সম্পর্কিত অনেক নতুন ধারণা বের হয়ে আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা গবেষণার গুরুত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছেন, ‘একটি দেশের উন্নয়নে গবেষণার প্রয়োজন অনেক। শিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণা প্রয়োজন। তাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা শেষে গবেষণায় নিয়োজিত হতে হবে।’ এই মূল্যবান বিষয়টি অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে শিক্ষা গবেষণার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কিনা, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা এবং তা থেকে দেশ কী অর্জন করছে সেটা দেখার জন্য কোনো সরকারি নজরদারি আছে কিনা এসব ভেবে দেখতে হবে। শিক্ষা গবেষণার সুবিধা হচ্ছে, যে কেউ তার অবস্থান থেকে গবেষণা করতে পারে- ডাক্তার কিংবা শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী, রাজনীতিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, মনস্তত্ত্ববিদ ও সমাজতাত্ত্বিক। আর শিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণাগুলো বিশ্বস্বীকৃত জার্নাল ও ম্যাগাজিনে প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে। এর ফলে এ ধরনের শিক্ষা গবেষণা কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যে না থেকে সার্বজনীন হয়ে উঠতে পারে। আর এর মাধ্যমেই আধুনিক শিক্ষাকে আনন্দের উপাদান হিসেবে মানুষের কাছে জীবন ও বাস্তবমুখী করা সম্ভব। তাই শিক্ষানীতি প্রণয়নের আগে শিক্ষাসংক্রান্ত ধারাবাহিক গবেষণা দরকার। এছাড়া সময়ের সঙ্গে শিক্ষার পরিবর্তনের গতিধারা কী হবে তাও নির্ধারিত হতে পারে শিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণার মাধ্যমে।
ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী : অধ্যাপক, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি