শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮
২০ গ্রামের মানুষের সাঁকোই ভরসা
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 8:37 PM

২০ গ্রামের মানুষের সাঁকোই ভরসাস্টাফ রিপোর্টার॥ সরিষাবাড়ী উপজেলার পোঘলদিগা ইউনিয়নের মানিকপটল গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঝারকাটা ঝিনাই নদী। ওই নদী-সম্পৃক্ত আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের প্রতিটি মুহূর্তে নদী পারাপারের প্রয়োজন পড়ে। বহু বছর ধরে বাঁশের সাঁকোয় পারাপার হচ্ছে এলাকার ২০টি গ্রামের মানুষ। শুকনো মৌসুমে ৬ মাস ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে আসছে সাঁকো দিয়ে, আর বন্যা এলে সাঁকোটি তলিয়ে যায়। ফলে বন্যা মৌসুমে শুরু হয় মানুষের চরম ভোগান্তি। সেতু না থাকায় ২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে র্দীঘ দিন ধরে। দুটি মৌসুমেই সেতুর অভাবে ঘটে দুর্ঘটনা। প্রবল বন্যার সময় নৌকা ডুবে প্রাণ হারাতে হয়েছে অনেকের। তেমনই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগী ও শিক্ষার্থীরা জানায়, উপজেলার পোঘলদিগা ইউনিয়নের মানিকপটল গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঝারকাটা ঝিনাই নদী। ওই সব চরাঞ্চল এলাকার প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের একটি সেতুর দাবি পূরণ হয়নি আজও। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনরা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বেচ্ছাশ্রমে ওই এলাকার মানুষ প্রতি বছর বাঁশ সংগ্রহ করে যাতায়াতের জন্য সাঁকো তৈরি করে। বাঁশ দিয়ে নির্মিত দীর্ঘতম সাঁকোটি মজবুত না হওয়ায় দ্রুত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। মানিকপটল, বিন্যাফৈর, টাকুরীয়া, বামনজানি, মালিপাড়া, চরসরিষাবাড়ী, সালগ্রাম, পুটিয়ারপাড়, সালালেরচর, সেমুলতাইর, দাসেরবাড়ী গ্রামের মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করে আসছে। বাঁশের সাঁকো থেকে শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে তাদের বই-খাতা ভিজে যায়। অনেকে সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। খেয়া নৌকা দিয়ে পার হতে গিয়ে নৌকা ডুবে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।     
পোঘলদিগা ইউনিয়নের ওই গ্রামগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালায় না থাকায় সরিষাবাড়ী উপজেলা সদরে আসতে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। শত শত শিক্ষার্থী এ সেতু দিয়ে পারাপার হয়ে আসছে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুস্তাক আহম্মেদ জানায়, অনেক বার সাঁকো থেকে পড়ে বই-খাতা ভিজে গেছে। ওই দিন আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি।
পোঘলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন বলেন, ঝারকাটা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ হলে ২০ গ্রামের মানুষ দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বলেন, পোঘলদিঘা ইউনিয়নের মনিকপটল গ্রামের মধ্যে প্রবাহিত ঝারকাটা ঝিনাই নদীর সেতুটি খুবই প্রয়োজন। এ জন্য দীর্ঘ দিন উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে আলোচনা করেছি। তা ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সেতুটি হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
ইউএনও সাইয়েদ এজেড মোরশেদ আলী বলেন, নদীতে র্বাশের সাঁকোয় পারাপারের বিষয়টি আমার জানা। উপজেলা প্রশাসন থেকে ওই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তাদের জীবনযাত্রাও উন্নত হবে।



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯, ০১৭৫৬৯৩৮৩৩৮
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট এম. সাইফুল আলম। আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি