শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
খালেদার আপিল বৃহস্পতিবার!
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 7:34 PM


 খালেদার আপিল বৃহস্পতিবার! জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে আপিল করার আশা করেছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী  বলেন, আগামীকাল বুধবার রায়ের সার্টিফাইড কপি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই আদালতের পেসকার।

সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আগামীকাল কপি হাতে পেলে বৃহস্পতিবারই আমরা আপিল দায়ের করবো।

মঙ্গলবার দুপুরে সানাউল্লাহ মিয়ার নেতৃত্বে একদল আইনজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাফটকে যান। তবে তাদেরকে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি।  

এ বিষয়ে সানাউল্লাহ মিয়া  বলেন, ‘আমরা উকালতনামায় বেগম জিয়ার স্বাক্ষর নিতে এসেছিলাম। কারণ আমরা শুনেছি তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন অ্যারেস্ট জারি হয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ জানালো, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট আসেনি। তাই ওকালতনামা জেল সুপারের কাছে রেখে এসেছি।’

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পুরান ঢাকার বকশিবাজারের কারা অধিদপ্তরের মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর ওই দিনই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। খালেদা জিয়াকে ডিভিশন না দেয়া হলে গত রবিবার তাকে ডিভিশন দেয়ার জন্য আদালতে তার আইনজীবীরা আবেদন করেন। আদালতে তাকে ডিভিশন দেয়ার আদেশ দিলে ওই দিন থেকে তাকে ডিভিশন সুবিধা দেয়া হয়।

এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদ আসামি হিসাবে রয়েছেন। এর মধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকি ও মমিনুর রহমান পলাতক। আর সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন কারাগারে আছেন।

বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই নগরীর রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করে দুদক। মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে বিদেশ থেকে পাঠানো দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অরফানেজ মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুর্নীতিসংক্রান্ত আরেকটি মামলা দায়ের করে দুদক। এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়। একই দিনে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ট্রাস্ট সংক্রান্ত এই দুইটি মামলার সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায়। দণ্ডবিধির ৪০৯/ ১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠনের পরই শুরু হয় দুইটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী। ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি