বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯
১৫ই এপ্রিল দেয়া হাজারীর ফেসবুক পেইজের ভাষণ
Published : Wednesday, 17 April, 2019 at 12:24 PM, Update: 17.04.2019 6:36:20 PM

১৫ই এপ্রিল দেয়া হাজারীর ফেসবুক পেইজের ভাষণস্টাফ রিপোর্টার ॥
                                                  (এই ভাষণটি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দেড়লক্ষ মানুষ দেখেছে)
সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী ১৫ই এপ্রিল সন্ধ্যায় তার ফেসবুক পেইজে ৩০ মিনিটের একটি ভাষণ দেন। ভাষনের শুরুতেই তিনি ১০ই এপ্রিল মৃত্যুবরণ করা নুসরাতের বিদায়ী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সময় তিনি ফুলগাজী থানা আ.লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন ও কাজীরবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল মজুমদারের মৃত্যুতেও গভীয় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

হাজারী নুসরাতের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যে আন্তরিক ও কঠোর ভূমিকা নিয়েছেন তার জন্য তিনি নেত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন নেত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার ব্যাপারে যে ভূমিকা রেখেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা কিন্তু নুসরাতের বিষয়টি আরো বিস্ময়কর। কেননা ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক কিন্তু নুসরাত অজপাড়াগায়ের একটি সাধারণ মেয়ে। তার জন্য যা করেছেন তা একটি বিরল ঘটনা। আমরা ফেনীবাসী তাই অনন্তকাল শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবো।

হাজারী বলেন আমি ফেনীবাসীকে নববর্ষের অনুষ্ঠান বর্জন করতে বলেছিলাম। অনেকেই আমার অনুরোধে তা বর্জন করেছেন। আবার অসংখ্য লোক ফেসবুক কমেন্টে গিয়ে আমার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। আমি তাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই।

 এদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন আ.লীগের যেসব লোক নুসরাতের ব্যাপারে জড়িত তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এই প্রজন্মের জনপ্রিয় কবি নির্মেলেন্দু গুণ বলেছে নুসরাত হত্যার কোন প্রতিকার না হলে আমি আমরণ অনশন করবো। এদিকে ব্যারিষ্টার সুমনের রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বলেছে অন্যকেহ কোন ব্যবস্থা না নিলে আমরা এগিয়ে আসবো। সুমন ওসির বিরুদ্ধেও আইসিটির ধারায় মামলা করেছে। হাজারী এসব ভূমিকার জন্য উল্লেখিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 ১৫ তারিখেই নুসরাতের পিতা-মাতা ও ভাইয়েরা নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি তাদের সান্তনা দিয়েছেন। এ সময় কোন আ.লীগ নেতা উপস্থিত ছিলেন না বা নেত্রী কাউকে থাকতে দেননি। এতে বুঝা যায় নেত্রী সোনাগাজী তথা ফেনী আ.লীগের উপর ক্ষুব্ধ। তাই তিনি মাহবুব আলম হানিফকে ফেনী আ.লীগে শুদ্ধি অভিযান চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোন খুনি যাতে পার পেতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে কেন্দ্র থেকে আ.লীগ নেতারা ফেনী যাবে।

হাজারী বলেন কোন মামলা তদন্তাধীন থাকলে সে ব্যাপারে কোন মতামত দিয়ে কথা বলা সমীচিন নয়। তাই যত তথ্য আমার কাছে আছে সব বলতে চাইনা। ফেনীবাসী জানে সেন্ডিকেটরা সব সময় বলে আসছে আগে ফেনী সন্ত্রাস কবলিত ছিল এখন শান্তি বিরাজমান। নুসরাতকে আগুন দিয়ে হত্যা করা ছাড়াও পরদিনই সোনাগাজীর দক্ষিণ অংশে একটি ছাত্রকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে এখন চট্টগ্রাম মেডিকেলে। অন্যদিকে সদর থানার তেমুহনিতে একটি শিশুর গলিত লাশ পাওয়া গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো কি সন্ত্রাস নয়? নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনার চাইতে আর বড় সন্ত্রাস কি হতে পারে? আগে বা আমার আমলে কোনদিন কোন পক্ষই কাউকে আগুনে পুড়িয়ে মারে নাই। আগুনে পুড়িয়ে মারা খুবই যন্ত্রণাদায়ক তাই দোজখেও আগুনের মাধ্যমেই কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। আমার আমলে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে লড়াই হয়েছে। রাজনৈতিক আদিপত্য লাভের এই লড়াইতে কাউকে আগুনে জ্বালিয়ে মারা হয় নাই। আগুনে পুড়িয়ে মারা এই অধ্যয়টি ফেনীর ইতিহাসকে অনন্তকাল কলঙ্কিত করে রাখবে। একরাম খুনের দোষরাই নুসরাতকেও হত্যা করেছে। মীর জাফরের দোষরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। যুগে যুগে এরা বেঁচে থাকলে ফেনীতে পুড়িয়ে মারার ঘটনা চলতেই থাকবে। একরাম হত্যার নেপথ্য নায়কেরা ধরা পড়লে আজকে নুসরাতের এই করুন খুনটি হত না।


যেই সিরাজউদদৌলা নুসরাত হত্যার নেপথ্য নায়ক সে ছিল সেন্ডিকেট ঘনিষ্ঠ। সেন্ডিকেট নেতা তাকে আ.লীগে যোগদান করিয়েছে। ফলে সে কাউকেই পরোয়া করতো না। এই সিরাজউদদৌলার যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা আগেও প্রকাশিত হয়েছে। কেউ কেউ প্রতিবাদও করেছিল। বরং প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনজন শিক্ষক নাজেহাল হয়েছে। আ.লীগে যোগ দেয়ার পর তার কোন কাজের বিরোধীতা করার সাহস পেত না। বলা হচ্ছে দুটি কারনে নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে। একটি হচ্ছে নুসরাত আলেম সমাজকে কলঙ্কিত করেছে। অপরটি হচ্ছে শামীম নামের একটি ছেলের নুসরাতকে প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হয়ে এই কাজটি করেছে। হাজারী বলেন এ ব্যাপারে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। কারণ সিরাজউদদৌলা শুধু আলেম নয় সে আ.লীগ নেতাও এবং এতে আ.লীগের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। তাহলে আ.লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার জন্য আ.লীগই এটা করেছে বলা হবে না কেন? বরং কোন আলেম নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় নায় সবাই ছিল আ.লীগের আর যদি শামীমের প্রেম নিবেদনকে সামনে আনা হয় তাহলেতো সিরাজউদদৌলার বেচেই যাবে। এদিকে শামীমসহ দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে স্বীকার করেছে জেলখানা থেকে সিরাজউদদৌলা ঘটনার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সিরাজউদদৌলার পার পাবার আপাতত কোন সুযোগ নাই। হাজারী বলেন আমি মনে করি যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিরাজউদদৌলাকে আ.লীগে এনেছে তাদেরকে এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতেই হবে।
সিফাত উল্লাহ নামে একজন ভিএনা থেকে লাইভে ভাষণ দিয়ে হাজারীকে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়েছে। হাজারী এ ব্যাপারে বলেন সমগ্র ফেনীবাসী জেগে উঠেছে, দেশবাসী জেগে উঠেছে, শেখ হাসিনা জাগ্রত হয়েছে সুতারাং সিফাত উল্লাকে তিনি বলেন খুনিরা রেহাই পাবে না এটা নিশ্চিত। সুতরাং ক্ষোভ ও হতাশার কোন কারণ নাই।

হাজারী বলেছেন নুসরাত পুলিশের কাছে যাওয়াতেই তার মৃত্যু তরান্নিত হয়েছে। পুলিশের কাছে প্রতিকার তো পাইলোই না বরং তিরস্কার পেয়েছে এবং মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। সুতরাং যারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছে তাদের মতই পুলিশও ঘটনার জন্য দায়ি। ইতিমধ্যে আমেরিকা থেকে ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল রানা অনলাইনে কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে সে ফেনী পুলিশ ও সেন্ডিকেটের পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরেছে। এগুলো এতোই বাস্তব যে তা থেকে আমাদের শিক্ষনীয় অনেক কিছু আছে। সে রাশেদের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেছে। সোহেল রানার কথাগুলো আমলে নিলেই পুরো বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে। সোহেল রানা বলেছে মাদ্রাসার আদিপত্য নিয়ে যে বিরোধ তার সঙ্গে নুসরাতের এই হত্যা কান্ডের যোগসূত্র আছে। হাজারী বলেন একথার সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। এই মাদ্রাসাটি অর্থনৈতিকভাবে খুবই সমৃদ্ধ। এই মাদ্রাসার দুইশ থেকে আড়ইশো দোকান সমৃদ্ধ একটি মার্কেট আছে। কিছু দিনের মধ্যে দোকারগুলোর বরাদ্ধ নবায়ন করা হবে। এর সঙ্গে প্রায় ১০ কোটি টাকার লেনদেনের একটি বিষয় আছে। অপরদিকে ৫কোটি টাকা ব্যয় একটি ভবন তৈরি হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে বড় ধরণের চাঁদাবাজি জড়িত। যারা সিরাজউদদৌলার ঘনিষ্ট তারা তাকে বাচাতে চায় অপরপক্ষ তাকে ফাসাতে চায়। অনেকদিন থেকেই সিরাজউদদৌলার বিপক্ষেও এরা চেষ্টা করেও তার কোন ক্ষতি করতে পারেনি কিন্তু এখন তারা সুযোগটি পেয়ে গেছে এবং তা কাজে লাগিয়েছে। সিরাজ ঘনিষ্ঠরা নুসরাতের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কারণ তাদের প্রিয় সিরাজউদদৌলার বিরুদ্ধে সে থানায় গেছে। সুতরাং সিরাজ ঘনিষ্ঠরা খুনিদের সাহস না দিলে তারা এই জঘন্য কাজটি করতে এগিয়ে আসতো কিনা চিন্তার বিষয়।
 এখন সেন্ডিকেট নেতারা ঘোষণা দিচ্ছে তার মামলা চালাবে তার নামে মাদ্রাসা করবে, রাস্তা করবে ইত্যাদি। নুসরাতের নামে মাদ্রাসাটি হবে সেটি তার জানাজাতেই ঘোষণা হয়েছে। নুসরাতের সকল দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছে। সুতরাং আর কারো কোন দায়িত্ব নেয়ার প্রয়োজন নাই। মামলার দায়িত্ব তো পুলিশ আর পিপিরাই নিবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নুসরাতকে নিয়ে যখন সারা বাংলাদেশ তোলপার নেত্রী যখন বার বার কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং নুসরাত হাসপাতালে কাতরাচ্ছিল তখন সেন্ডিকেট নেতা কোথায় ছিল। কেন তিনি সিঙ্গাপুর পড়ে রইলেন। খবর শুনে লিপ্টন চলে এলো এবং হাসপাতাল ও জানাজায় অংশ নিল। তাহলে সেন্ডিকেট নেতা তখন দেশে না এসে এখন বড় বড় কথা বলছে। নুসরাতের লাশ যখন কবরের ভেতরে চলে গেছে তার পরে এসে তার জন্য মায়া কান্না বেমানান।

এদিকে রহমান বিকম হঠাৎই বলে বসেছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আমরা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। ভুলে বলার জন্য কতো কথাই তো আছে। একেবারে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই ধরনের ভুল মানা যায় না। এখন রহমান বিকমের কি হয় সেজন্যে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। লতিফ সিদ্দিকির যে দশা হয়েছে বিকমেরও সেরকম কিছু একটা হয়ে গেলে বিস্মিত হওয়ার কিছুই নাই।
সব শেষে আমি শুধু বলি এবং সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই। কোন অপরাধি কিছুতেই ছাড়া পাবে না। কেননা প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাব নিয়েছে। আমি নেত্রীর উপরে শতভাগ আস্তা রেখেছি।
”সব শেষে কবি সুকান্তের কথায় শুধু বলি-
                                               মৃত্যুর জানাজা মোরা  কিছুতেই করিবনা পাঠ
                                                     কবরেরও ঘুম ভাঙ্গে
                                                জীবনের দাবি আজ এতোই বিরাট”





সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি