রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
শেষ সময়ে বদনজর ছিলো গণমাধ্যমেও
Published : Wednesday, 15 May, 2019 at 9:13 AM

শেষ সময়ে বদনজর ছিলো গণমাধ্যমেও ফেনী প্রতিনিধি ॥
সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ফেনীর পুলিশ সুপার এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার শেষ সময়ে ক্ষুদ্ধ ছিলেন গণমাধ্যম কর্মীদের উপর। কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীকে হেনস্থা করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এক্ষেত্রে তার আস্থাভাজন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও চাটুকার তাকে উস্কানী দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজীর বর্বরোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকান্ড শুরু থেকে ওসি মো: মোয়াজ্জেম হোসেন ও এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকার আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এনিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়। একপর্যায়ে মামলাটি তদন্তের ভার দেয়া হয় পিবিআইকে। ফলও হয়েছে তাতে। অল্প সময়ে ঘটনায় জড়িতরা গ্রেফতার হয়। এমনকি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও প্রদান করে। অপরদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত কমিটির তদন্তে এসপি জাহাঙ্গীর সরকার ও ওসি মো: মোয়াজ্জেম হোসেন সহ দুই এসআই এর গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা, পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ মেলে। ওই প্রতিবেদনে তাদের শাস্তির সুপারিশ করা হয়। ওসি মো: মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘটনার পরপরই প্রত্যাহার করা হলেও অন্যরা থাকেন বহাল তবিয়তে। এসপি জাহাঙ্গীর সরকার স্বপদে থাকতে নানা চেষ্টা-তদবীর চালান। ফেনীতে ঘুরেফিরে ৮-১০ বছর করে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা বলে বেড়ান- জাহাঙ্গীর সরকারের কিছুই হবেনা। দৈনিক ফেনীর সময় এ এসপি জাহাঙ্গীরকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রকাশ করায় সর্বমহলে ব্যাপক আলোচিত হয়। সমালোচনার ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। এতেও নাখোশ হন জাহাঙ্গীর সরকার। এমতপরিস্থিতিতে তারা শোধ নিতে সাংবাদিকদের ঘায়েল করার চক আঁকেন। মাদক, চাঁদাবাজী, চোরাচালান সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত তার কতিপয় সহযোগিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসপির বন্দনা করে ও সাংবাদিকদের বিষোদগার করে।
১৪ এপ্রিল সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার আতিয়ার সজলের নামে সোনাগাজী মডেল থানায় জিডি করেন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এতে ক্ষুদ্ধ হন সাংবাদিকরা। সজলও পাল্টা জিডি করেন মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে ওই ঘটনার জের ধরে সাংবাদিক নেতারা এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। এতে তিনি আরো ক্ষুদ্ধ হন। ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরামের সভায় হল ভাড়া দেয়ায় অতিথি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টের এক স্টাফকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তাকে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতিকেও ফোন করে এসপি কৈফিয়ত তলব করেন। এমনকি অপরাপর রেষ্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সেন্টারে পুলিশের অনুমতি ব্যতিরেকে কোন সভা-সমাবেশে হল ভাড়া দিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
জানা গেছে, ছাগলনাইয়ায় কর্মরত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সচল করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই মামলাটি ইতিমধ্যে দুইপক্ষের আপোষরফা চূড়ান্ত পর্যায়ে হলেও চার্জশীট দিতে তৎপর হয়ে উঠেন তদন্তকারি কর্মকর্তা। একইসাথে ফেনী প্রেস ক্লাবের বিবদমান দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি মামলাও চার্জশীট দিতে নির্দেশ দেন এসপি জাহাঙ্গীর সরকার। এসব ঘটনা জানাজানি হলে সাংবাদিক সহ সচেতন মহলে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফেনী প্রেস ক্লাব একাংশের সভায় সাংবাদিকদের হয়রানি না করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
সময় টিভির ব্যুরো চীফ বখতেয়ার ইসলাম মুন্না তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘সাবেক এসপি এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার যাওয়ার আগে আমার ব্যাক্তিগত ক্ষতি করেছেন।
আরেক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘নুসরাত ইস্যুতে ফেনীর কিছু কথিত ক্ষমতাধর অপশক্তি নাকি কর্মরত নিষ্ঠাবান সাংবাদিকদের হয়রানী করতে কঠিন নজরদারী করছেন। তাদের হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, সাংবাদিকদের সাথে লাগতে আসার আগে হলুদ বর্ণের প্যান্ট পরে নিন। যেন লুজ মোশান হলে বুঝা না যায়। মনে রাখবেন কারো অবৈধ অর্থ, বাড়ি, গাড়ি, নারী ও ক্ষমতার অপব্যবহার কোনটাই সাংবাদিকদের নজরদারীর বাইরে নেই। নিশ্চয় আমরা সবাই জানি বাজ পড়ার আগে বিজলী চমকায়। অতএব সাবধান।’
বাসস ও বাংলাদেশ বেতার প্রতিনিধি আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, এমন এসপি আমার জীবনে দেখিনি। নিজের স্বত্তা, পদপদবী বিসর্জন দিয়ে সে স্বীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা তার বুমেরাং হয়েছে।
যুগান্তর প্রতিনিধি যতন মজুমদার বলেন, সাংবাদিকরা কারো প্রতিপক্ষ নয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারনে কেউ হয়রানির চেষ্টা করলে সেটি দু:খজনক। এক্ষেত্রে ফেনীর সাংবাদিকরাও কখনো মাতানত করবে না।
বাংলা ভিশন ও বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বলেন, নুসরাত রাফি হত্যাকান্ডকে পুলিশ বিভাগের লোকজন আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টাকে আপোষহীন পেশাদার সাংবাদিকরা কলমের মধ্য দিয়ে সত্যটা অনুসন্ধান করেছে। অবহেলার জায়গাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। তারা স্বাভাবিকভাবে ক্ষুদ্ধ হতে পারেন। নানান অপকৌশলে হয়রানির চেষ্টা করতে পারে। মানবজমিন ও বিডি নিউজ প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম বলেন, নুসরাত রাফি হত্যার পর কিছু কিছু পুলিশের ন্যাক্কারজনক আচরণ ছিলো, সেই আচরনের কারনে নুসরাতের পরিবার তথা ফেনীবাসীর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। পুলিশের নৈতিক স্থলনজনিত যেই কর্মকর্তাদের অপসারন করা হয়েছে এতে করে কলংকমুক্ত হয়েছে পুলিশ। ফেনীবাসীরও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।
এস এ টিভি প্রতিনিধি মাঈনুল রাসেল বলেন, যদি কেউ সাংবাদিকদের হয়রানির করতে চায় তাদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।
কালেরকন্ঠ সোনাগাজী প্রতিনিধি শেখ আবদুল হান্নান বলেন, অত্যন্ত নিন্দনীয়। স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এটি অন্তরায়। আমরা কখনো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন পদক্ষেপ আশা করি না। তারা ভবিষ্যতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করবেন।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি