শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
ফেনীতে হত্যাকান্ডসহ নানা অপরাধে বহিরাগত কিশোররা
Published : Monday, 24 June, 2019 at 8:37 PM

ফেনীতে হত্যাকান্ডসহ নানা অপরাধে বহিরাগত কিশোররাফেনী প্রতিনিধি ॥
ফেনী শহর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। এসব অপরাধীদের অধিকাংশই বহিরাগত। ফেনীতে ৪টি হত্যাকান্ডে পুলিশের ক্লু উদঘাটনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। এসব অপরাধীরা ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী। এ বয়সে তারা ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িতে জেল খাটছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের গাজীক্রস রোডের হাসান আলী ভূঁঞা বাড়ি সংলগ্ন হক ম্যানশন থেকে ৩০ মে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন সফি উল্যা (৬০) এর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহতের ছেলে আবদুল মোতালেব বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: মাঈন উদ্দিন ভূঁঞা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের একাডেমী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত হলো বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ থানার পঞ্চকরণ গ্রামের চাঁন মিয়া হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার (১৯) ও তার ভাই রনি (১৬), একই থানার সুনিজর গ্রামের কাজী বাড়ীর মো: আব্বাস খানের ছেলে মো: ইয়াছিন সাকিব (১৬), লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার চর মোহনা গ্রামের আলীমুদ্দিন দেওয়ান বাড়ীর মো: জয়নাল আবেদীনের ছেলে মেহেদী হাসান রাব্বি (১৬)। টাকা চুরি করতে পিয়ন মো: সফি উল্যাহকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে রাব্বি, সাকিব ও রনি। হত্যা করে ১ লাখ টাকা ও স্বর্ণ, ১টি ওয়ালটন মোবাইল সেট নিয়ে যায়। সাকিব ১০ হাজার ও মোবাইল ফোন, রাব্বি ১০ হাজার এবং রনি ৫শ টাকা ভাগে পায় বলে আদালতে জবানবন্দিতে জানায়। সোহেল, রনি, রাব্বি ও সাকিব গাজী ক্রস রোডে ভাড়া থাকে।
১৯ মে সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের উত্তর ছনুয়া গ্রামে নিখোঁজের দুইদিন পর বেলায়েত হোসেন (৪৫) নামের এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জড়িত সন্দেহে ওই দিন ফার্মের কর্মচারী মো: ফুজায়েল আহম্মদকে গ্রেফতার করে। ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম ও বোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ওমর হায়দার অভিযান চালিয়ে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে সংলগ্ন সদর উপজেলার উত্তর ছনুয়া গ্রামের একটি খাল থেকে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। মনোমালিন্যের জের ধরে বেলায়েত হোসেনকে হত্যার কথা স্বীকার করে পরের দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় ফুজায়েল। ফুজায়েল নেত্রকোনা জেলার বারহাটি থানার আবদুল ওহাবের ছেলে। নিহতের ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে ফার্মের কর্মচারী মো: ফুজায়েল আহম্মদকে আসামী করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ৭ এপ্রিল ভোরে স্কুল ছাত্র আরাফাত হোসেন শুভ (১৪) এর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আরাফাত পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী মাদার কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৩১ মার্চ রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তেমুহনী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। ৭ এপ্রিল রবিবার ভোরে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারায় একটি কলা বাগানের ঝোপ থেকে গলাকাটা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুভ দক্ষিণ কাশিমপুর কালা মিয়া কণ্ট্রাক্টর বাড়ীর প্রবাসী ইমাম হোসেনের ছেলে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুরেজিৎ বড়–য়া জানান, ৮ এপ্রিল সোমবার বিকালে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মাথিয়ারা গ্রামের আবদুস সালাম মিস্ত্রী বাড়ী থেকে মো. কামাল উদ্দিনের ছেলে ও তেমুহনী মাদার কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে বলে পরেরদিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সহপাঠী মো: ইসমাইল হোসেন ইমন (১৪)। ইমনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তার ঘরের আলমিরা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। ২৭ জানুয়ারী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া স্কুল ছাত্র আরাফাত হোসেন (১২) এর লাশ পরের দিন পাঠান বাড়ী এলাকার জেবি টাওয়ারের সামনে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ২৮ জানুয়ারী দুপুরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূলহোতা সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকারীরা আরাফাতের পা ভেঙ্গে ফেলে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে। ২৯ জানুয়ারী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহজাহান সাব্বিরকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রের জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করলে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সাব্বির সেদিন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয় ও জড়িত ৪/৫ জনের নাম প্রকাশ করে। জবানবন্দিতে সাব্বির আরো জানায়, মুন্না, তুহিন ও সাব্বিরসহ চারজনে মিলে গলাচিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। সাব্বির বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার অধিবাসী হলেও সে পাঠান বাড়ী এলাকার এমরানের কলোনীতে ভাড়া থাকে। নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে আরাফাতদের নির্মাণাধীন বিল্ডিং এ কাজ করে। আরাফাতের মা বিবি রাবেয়া বাদী হয়ে সাব্বির প্রধান আসামী ও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। আরফাত প্রবাসী মো: জসিম উদ্দিনের ছেলে। সে পুলিশ লাইন্স স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
আরও খবর


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি