বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
কণ্ঠিবদলের রাজনীতিতে মিত্র বর্জনের গুঞ্জন
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
Published : Tuesday, 19 November, 2019 at 10:04 AM

 কণ্ঠিবদলের রাজনীতিতে মিত্র বর্জনের গুঞ্জন‘মরেও না মরে রাম এ কেমন বৈরী?’ রামায়ণের এই কথাটা এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতেও উচ্চারিত হচ্ছে। মরেও না মরে জামায়াত, এ কেমন বৈরী? আবার সেই যে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে আঠার মতো লেগে আছে, তাও ছাড়ানো যাচ্ছে না। জোঁকের মতো বিএনপির শরীরে লেগে থেকে তার রক্ত শোষণ করছে। তাতে বিএনপি এখন অর্ধমৃত! জামায়াতের আলিঙ্গন থেকে বিএনপিকে মুক্ত করা গেলে দলটি বাঁচবে বলে অনেকের ধারণা। দলের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী তাই জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। বিএনপি যাদের কাছে ধরনা দিচ্ছে, সেই বিদেশি কূটনীতিকরাও দলটিকে একই পরামর্শ দিচ্ছেন বলে প্রকাশ।

কিন্তু বিএনপি ও জামায়াতের ‘কণ্ঠিবদলের বিয়ে’ কিছুতেই ভাঙা যাচ্ছে না। প্রধান বাধা তারেক রহমান। তারেক রহমান জামায়াতকে শুধু রাজনৈতিক মিত্র মনে করেন না। মনে করেন পারিবারিক আত্মীয়। ঢাকায় থাকতে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াত শুধু রাজনৈতিক মিত্র নয়, পারিবারিক আত্মীয়।’ এই আত্মীয়তা ভাঙতে তিনি কখনো রাজি ছিলেন না। ঢাকার কাগজের খবরেও বলা হয়েছে, ‘ঢাকায় থাকা বিএনপির নেতারা মনে করেন তাঁরা সবাই মিলে চাইলেও জামায়াতের সঙ্গে জোট ভাঙা যাবে না। এ জন্য দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বিদেশে পলাতক দলের ভারপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমানের সম্মতি লাগবে।’

ঢাকার রাজনৈতিক মহল মনে করে, জামায়াতের সঙ্গে জোট ভাঙার ব্যাপারে খালেদা জিয়ার সম্মতি আদায় করা এখন কঠিন হবে না। তিনি দীর্ঘ কারাবাসে অতিষ্ঠ। যেকোনো মূল্যে কারামুক্ত হতে তিনি রাজি হবেন। কিন্তু মায়ের কারাবাসে বিদেশে বসবাসকারী তারেক রহমানের বিলাসবহুল জীবনে কিছুমাত্র আঁচড় লাগেনি। ব্যক্তিগতভাবেও তাঁর জামায়াত ভক্তি মাতৃভক্তির চেয়ে বড়। কারণ অনেকে মনে করেন, তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা বহাল রাখার জন্য যে বিরাট অর্থের প্রয়োজন তার বেশির ভাগ আসে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সূত্র থেকে এবং এগুলোর একটা ব্যবস্থা করার বড় দায়িত্ব পালন করেছে জামায়াত। জামায়াতের এই বদান্যতার বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া তারেকের পক্ষে কঠিন।

১৯৯৯ সালে জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্যে জোট গঠন করে বিএনপি। এই সময়টাতেই তারেক রহমান সাবালক হয়ে বিএনপির নেতৃত্বে আসেন প্রথমে অঘোষিতভাবে। বিএনপির সঙ্গে আগে জামায়াতের সম্পর্ক ছিল গোপন প্রেমের। তারেক নেতৃত্বে আসার পর তা প্রকাশ্য রূপ নেয় এবং ২০০১ সালের নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ঐক্যও হয়।

তারেক তাঁর পিতার দল বিএনপিকে কখনো গুরুত্ব দেননি, দিয়েছেন জামায়াতকে। জামায়াতের স্বার্থে ও পরামর্শে পিতৃবন্ধুদের দল থেকে তাড়িয়েছেন। তাদের নানাভাবে অসম্মান করা হয়েছে। আজ তাই বিএনপির নেতৃত্বে এই দশা। গত নির্বাচনের সময় বাইরে থেকে নেতা ভাড়া করে এনে নতুন জোট গঠন দ্বারা নির্বাচন করতে হয়েছে। বিএনপি নীতি বদল করেনি। জামায়াতের সঙ্গ ছাড়েনি। ফলে নির্বাচনে গো-হারা হারতে হয়েছে।

এখন অনেকে বলছেন, তারেক রহমান জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে রাজি হবেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি তাঁর মাকে জেল থেকে মুক্ত করা অথবা তাঁর নিরাপদ দেশে ফেরা কোনোটাই নিশ্চিত করতে পাবে না। বিএনপির আগের শক্তি নেই। জামায়াতও শক্তি হারিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে মিলে দেশে অবিরাম সন্ত্রাস চালিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাই গত নির্বাচনের সময় তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি এক অদ্ভুত দ্বিচারিতার নীতি গ্রহণ করেছিল। একদিকে জামায়াতকেসহ ২০ দলীয় জোটকে বাঁচিয়ে রেখেছে, অন্যদিকে তারা জামায়াতের সঙ্গ ছেড়েছে। দেশের মানুষকে এই ভাঁওতা দেওয়ার জন্য জামায়াতকে বর্জন করে একটি ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে।

এই ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ধোঁকাবাজি দেশের মানুষের কাছে সহজেই ধরা পড়ে। ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা হলেও যে তারেক রহমানের ক্রীড়নক এবং নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির সব সহযোগিতা পেয়েছে এটা ধরা পড়তে দেরি হয়নি। এখন নির্বাচনের পর বিএনপির অনেক নেতাই ভাবছেন, জামায়াতকে সঙ্গে রাখা তাঁদের পরাজয়ের মূল কারণ। এই চিন্তাভাবনা থেকে তাঁরা জামায়াতের সংশ্রব ও সম্পর্ক ছাড়ার কথা ভাবছেন। তাঁদের অনেক পরামর্শদাতা এই পরামর্শ দিচ্ছেন। ইদানীং বিদেশে ছোটাছুটি করেও বিএনপি নেতারা আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে যে পরামর্শ পাচ্ছেন, তাও নাকি বিএনপির সংশ্রব বর্জন করবে বলে ঢাকার কাগজেই সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে।

ফলে তারেক রহমানের সম্মতি নিয়ে জামায়াতকে ছাড়তে চান বিএনপির বেশির ভাগ নেতা। তারেক বিলাতে বসে যতই তর্জন-গর্জন করুন, তিনি এবার জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘকালের আত্মীয়তা ছিন্ন করতে রাজি হবেন এই আশা তাঁরা করছেন। তারেক এ সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি। তাঁর মতিগতি স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া যাঁরা জামায়াতের সংশ্রব ছাড়ার জন্য বিএনপিকে পরামর্শ দিচ্ছেন, তাঁরা কি ভাবেন, বিএনপি এই কাজটি করলেই তার জনপ্রিয়তার রথ আবার আকাশে উড়তে শুরু করবে?

বিএনপি কোনো দিনই একটি জনপ্রিয় দল ছিল না। বন্দুকের জোরে তার ক্ষমতা দখল। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তার নির্বাচন বিজয়ে একটির পেছনে ছিল আর্মি ব্যুরোক্রেসি ও সিভিল ব্যুরোক্রেসির একটি বড় অংশের চক্রান্ত এবং দ্বিতীয়টির মূলে ছিল আর্মি ও সিভিল ব্যুরোক্রেসির সঙ্গে আমেরিকাসহ একদল পশ্চিমা কূটনীতিকের যোগসাজশে চক্রান্ত। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য নিরপেক্ষতার আবরণে একটি শক্তিশালী মিডিয়া এই সময়ে বিএনপি-জামায়াত চক্রকে সমর্থন দেয়। তবে এই নির্বাচন বিপর্যয়ে আওয়ামী লীগেরও কিছু ভুলভ্রান্তি ছিল।

২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ একটানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। এর মূলে রয়েছে জনগণের আস্থার সঙ্গে দেশের সিভিল-মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির আস্থাও আওয়ামী লীগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মিত্র বাড়িয়েছে বিস্ময়করভাবে। গত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কিছু কারচুপি করে থাকতে পারে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতেও তা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। এই কারচুপি না হলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হতো। মাঝখানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের এক শ্রেণির নেতাকর্মী বেশি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের মুখে কালি লাগিয়েছে।

বিএনপির একটানা দুর্ভাগ্যের কারণ, জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত এবং জামায়াতের সঙ্গে মিলে দেশে সন্ত্রাস সৃষ্টির অবিরাম চেষ্টা করায় বিএনপি জনগণের বিরাগভাজন হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলানোর অর্থ দেশের স্বাধীনতার শত্রুদের সঙ্গে মৈত্রী। জনগণ বিএনপির কাছ থেকে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা চেয়েছে। স্বাধীনতার আদর্শের বিরোধিতা চায়নি।

জনসমর্থন হারানোর সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির অযোগ্যতা ও অদূরদর্শিতার দরুন দেশের সিভিল-মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির একটি বড় অংশের সমর্থন বিএনপি হারায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বন্ধু সংগ্রহের ক্ষেত্রেও শেখ হাসিনার কূটনীতির কাছে বিএনপি পরাজিত হয়েছে। আমেরিকায় ট্রাম্প এবং ভারতে মোদি ক্ষমতায় আসায় বিএনপি শিবিরে যে আনন্দ-উল্লাস দেখা দিয়েছিল, অচিরেই তা বিষাদে পরিণত হয়। মোদি সরকার এখন হাসিনা সরকারের বড় বন্ধু এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আমেরিকান প্রশাসনের যে চিরাচরিত বিদ্বেষ তা এখন নেই। হাসিনা তা এখন ঠেকাতে পেরেছেন। এমনকি পাকিস্তানের একান্ত বন্ধু সৌদি আরবের সঙ্গে হাসিনা সরকারের এখন ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক।

তাহলে জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় মঞ্চে বিএনপির প্রথম দিকের অর্জনগুলো এখন কোথায়? তা কি শুধু জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেই ফেরত পাওয়া যাবে? পাওয়া যাবে না এটা বুঝেই দলের অবশিষ্ট প্রবীণ নেতারা এখন দল ছাড়তে শুরু করেছেন। বিএনপি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এখন জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইতে পারে। তাতে সম্মতি দিতে চাইলেও তারেকের পক্ষে তা সহজ হবে কি?

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এই দেশটির স্বাধীনতা ধ্বংস করার জন্য পাকিস্তানের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সহায়তায় বিএনপির জন্ম ও পরিচালনা। জামায়াতও এই গোয়েন্দা এজেন্সির সমর্থন ও অর্থপুষ্ট। পাকিস্তানের বর্তমান সরকারও চায় না, বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তাদের গোয়েন্দা এজেন্সি যে দুটি দলকে পরিচালনা করছে, তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হোক। সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের চাপের ফলেই বিএনপি জামায়াতের গাঁটছড়া ছাড়তে পারেনি। দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের বেশির ভাগ তা চাইলেও তারেক রহমান তাতে রাজি হননি। তাতে তাঁর রাজনৈতিক ও আর্থিক সর্বনাশ। একটি ব্যাপার লক্ষ করার মতো। গত সাধারণ নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রকাশ্যেই বলা শুরু করেছিল, তাদের অতীতের ভারতবিরোধিতার নীতি ভুল ছিল। তারা আর এই বিরোধিতার নীতি অনুসরণ করবে না। মনে হয়েছিল বিএনপি তার অতীতের নীতির ভুল ধরতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে ভারতের মতো একটি শক্তিশালী এবং বড় প্রতিবেশীকে চটিয়ে রেখে বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়া সহজ নয়। তাই তারা ভারত তোষণের নীতি গ্রহণ করেছে।

কিন্তু নির্বাচন চলে গেছে। বিএনপি তার স্বরূপে ফিরে যেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনা দিল্লির সঙ্গে যে চুক্তি করে এসেছেন, তাকে ‘ভারতের কাছে জাতীয় স্বার্থ বিক্রি করে দেওয়া’ বলে প্রচারণাটি বিএনপি শিবিরেই শুরু। বোঝা গেছে, পাকিস্তানের মুরব্বিদের চাপে বিএনপি তার ভারতবিরোধিতার নীতি থেকে সরতে পারছে না। নির্বাচনের আগে তারা যা বলেছে, তা দেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার অপচেষ্টা ছিল। দিল্লিও এই প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়নি।

জামায়াত আমেরিকার পৃষ্ঠপোষিত একটি দল। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জামায়াতের বিভিন্ন নাম। সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ও অর্থ সাহায্যে জামায়াত ধর্মের নাম ভাঙিয়ে ধ্বংসাত্মক কাজে রত। এই জামায়াতকে আমেরিকা বাংলাদেশে বিএনপির কাছ থেকে বিছিন্ন হয়ে শক্তিহীন ও মিত্রহীন হতে দেবে তা মনে হয় না। আমেরিকার কোনো কূটনীতিক বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আভাসেও পরামর্শ দিয়েছেন, তা আমার সত্য মনে হয় না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা এই পরামর্শ দিতে পারেন।

তারেক ইসলামাবাদ ও রিয়াদ এবং ওয়াশিংটনের ইশারা ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন কিংবা তা পারবেন মনে হয় না। তবু এই সম্পর্ক যদি ছিন্ন হয়, তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মরা ঘোড়া দিয়ে ঘাস খাওয়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিএনপি যদি জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ খুশি হবে। তারা দেশে একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক বিরোধী দল দেখতে চায়। এই বিরোধী দল আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করবে। স্বাধীনতার বিরোধিতা করবে না, যা এখন তারা করছে।

যদি অসম্ভব সম্ভব হয়, অর্থাৎ বিএনপির একদল নেতা ও কর্মী বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সম্মতি আদায় করতে পারেন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করেন, তাহলেও বিএনপির পালে সুবাতাস লাগবে না। দুর্নাম ঘুচবে মাত্র। বিএনপিকে আবার ক্ষমতা লাভে গ্রহণযোগ্য দল হতে হলে আগের অর্জনগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দলটি যোগ্য, অতীতের মতো চোরাকারবারি বাবর, গালকাটা অমুক এবং এই রকম দুর্বৃত্তদের দ্বারা হবু মন্ত্রী গবু রাজার সরকার গঠন করবে না—এই সিদ্ধান্ত দ্বারা সিভিল ও মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। অকারণে ভারতবিরোধিতার নীতি ত্যাগ করতে হবে। ত্যাগ করতে হবে পাকিস্তানের প্রতি বশ্যতামূলক আচরণ। মূল দলে এবং যুব ও ছাত্রদলে কঠোর শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে নীতি ও নেতৃত্বের পরিবর্তন দ্বারা দেশের মানুষের কাছে একটি স্বচ্ছ ও সুস্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএনপিকে তুলে ধরতে হবে।

নইলে শুধু ইসলাম বিপন্ন হওয়ার ধুয়া, আওয়ামী-বিদ্বেষ প্রচার এবং অকারণ ভারতবিরোধিতার নীতি দ্বারা বিএনপি আবার শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তাকে মুসলিম লীগের মতো অতীতের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে হবে।

 


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি