বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
টাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না চা শ্রমিকের ছেলে
Published : Friday, 22 November, 2019 at 4:13 PM

 জেলা প্রতিনিধি ॥
সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে মানুষের সেবা করতে চান তিনি। আর এই লক্ষ্যে শত অভাবের মাঝেও ১২ বছরের লেখাপড়া জীবনে হার মানেননি, লেখাপড়া থেকে মনোযোগ সরেনি। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্য এতদিন লেখাপড়ার খরচ চালালেও এখন থেমে গেছে মেধাবী ছাত্র সুজন রবিদাসের লেখাপড়া।
টাকার অভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। এখন শেষ আশা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু ভর্তির ফির ১৬ হাজার টাকা এখনও সংগ্রহ না করতে পেরে অনিশ্চিত তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। আগামী ১ ডিসেম্বর ভর্তির শেষদিন। এই অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়ে সুজন বলেন, এত এত মানুষ লেখাপড়া করছে, সরকারসহ বিত্তশালীরা কতজনকে সাহায্য করছে। কিন্তু কয়েক হাজার টাকার জন্য কি থেমে যাবে আমার শিক্ষাজীবন! এত কষ্ট করে এই পর্যন্ত এসেছি বাবা-মার মুখে একটু হাসি দেখার জন্য। পরিবারকে স্বচ্ছল করার জন্য।
সুজন রবিদাস মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউরা চা বাগানের চা শ্রমিক নারায়ণ রবিদাসের ছেলে।
সুজনের বাবা নারায়ণ রবিদাস বলেন, আমার পক্ষে তার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। আমি চা বাগানে কাজ করে দৈনিক ১০২ টাকা আয় করি। আমার স্ত্রী, আমার বড় ছেলে এবং আমার আয় মিলে মাসে পাঁচ হাজার টাকা রোজগার হয়। তার ওপরই চলে ৬ জনের সংসার। সুজনকে নোয়াখালী নিয়ে যাওয়া আসা এবং বইপত্র ও ভর্তির টাকাসহ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরকার। ভর্তির পর তার থাকা খাওয়া বাবদ প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। আমার ইচ্ছে থাকলেও আমি পারছি না। সরকার বা কোনো বিত্তবান এগিয়ে আসলে তবেই সম্ভব সুজনের লেখাপড়া নিয়মিত করা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ঘরে অনেক দিন খাবার থাকে না, প্রায়ই অর্ধেক খাবার সবাই মিলে খাই কিন্তু আমার ছেলে এতকিছুর মধ্যেও লেখাপড়া থেকে তার মনোযোগ নষ্ট করেনি। আমার বড় ছেলেও টাকার জন্য লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেনি। অষ্টম শ্রেণিতে উঠেই তাকে থামতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অদম্য মেধাবী সুজন খেয়ে না খেয়ে অভাবের সংসারে মানুষের সাহায্য নিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৫৮ পেয়েছেন। সুজনের লেখাপড়ায় বিভিন্ন সময় সাহায্য করে এসেছেন স্থানীয় কালীঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা। তিনি জানান, সে খুবই মেধাবী। সে যদি কিছু অর্থনৈতিক সমর্থন পায় জীবনে ভালো কিছু করতে পারবে।
সুজন রবিদাসের পরিবারের কারও মোবাইলফোন নেই। বিত্তবানদের কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে মৌলভীবাজার প্রতিনিধি রিপন দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তার ফোন নম্বর ০১৭১২-৩২৯৫১৩।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি