মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০
পরিবারতন্ত্র কি গণতন্ত্রের জন্য বিপৎস্বরূপ?
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
Published : Sunday, 1 December, 2019 at 9:07 PM

পরিবারতন্ত্র কি গণতন্ত্রের জন্য বিপৎস্বরূপ?কলকাতায় আমার সাংবাদিক বন্ধু অচিন রায় সম্প্রতি ‘দৈনিক স্টেটসম্যানে’ এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘নেহেরু-গান্ধী ডায়নেস্টি থেকে কংগ্রেস মুক্ত হতে পারলে আবার বৃহত্তম বিরোধী দল হতে পারবে।’ তার লেখাটির মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে, ‘নেহেরু-গান্ধী পরিবার কংগ্রেসের নেতৃত্ব থেকে সরে গেলে কংগ্রেস আবার ক্ষমতাতেও যেতে পারবে।’ শুধু অচিন রায় নয়, ভারতের আরো কয়েক জন প্রখ্যাত কলামিস্টও তাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের লেখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী একচ্ছত্র শাসন, পার্লামেন্টে শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতি ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধ্বংস করবে কি না—এটা ভেবে তারা উদ্বিগ্ন। তারা কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন, পরিবারতন্ত্রই কংগ্রেসের পতনের কারণ। মোদির মতো একজন ক্যারিশমাটিক ও শক্ত নেতৃত্ব বিরোধী দলে না থাকার দরুনই তারা সামনে এগুতে পারছেন না। কংগ্রেসে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে তারা বলেন খুবই দুর্বল নেতৃত্ব। তার বদলে অন্য আরেক জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতা তাদের খুঁজে বের করা উচিত।’
বাংলাদেশ সম্পর্কেও অনেকে একথা ভাবেন। আলোচনাটি প্রকাশ্যে চলে না এলেও ঘরোয়া আড্ডায় আলোচিত হচ্ছে। অনেকেরই প্রশ্ন, হাসিনার পর কে? তার পরিবার থেকে যোগ্য ও ক্যারিশমাটিক কোনো নেতার আবির্ভাব না হলে এই অভাব পূরণে ভারতের মোদির মতো কোনো কট্টর মৌলবাদী নেতা তার আধা মৌলবাদী দল নিয়ে (তুরস্ক ও মিশরে যা ঘটেছে) ক্ষমতায় চলে আসতে পারেন। ভারতে হিন্দুত্ববাদ, বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদ—এই দুইয়ের আবির্ভাবে (পাকিস্তান তো ঘোষিত মৌলবাদী দেশ) সারা উপমহাদেশের অবস্থা কী দাঁড়াবে তা সহজেই অনুমেয়।
আমি এই আলোচনায় শরিক হতে চেয়েই এই নিবন্ধটি লিখছি। আমার প্রশ্ন, ‘বাংলাদেশে ও ভারতে পরিবারতন্ত্রের প্রভাবমুক্ত হলেই কি গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশ বাধামুক্ত হবে? কয়েক বছর আগে আমি চীনের রাজনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ এক মার্কিন সাংবাদিকের একটি লেখা পড়েছিলাম। তিনি লিখেছেন, চীন কেন, এশিয়ার সব দেশেই পশ্চিমা গণতন্ত্র নয়, এশিয়ান গণতন্ত্রের বিকাশ প্রথমে প্রয়োজন। এশিয়ার সমাজব্যবস্থা পিতৃত্ব বা কর্তৃত্ববাদী। পরিবারে গণতন্ত্র নেই। পিতার কথাই শেষ কথা। পিতা না থাকলে বড়োভাই, বড়োভাই না থাকলে মা পরিবারের ওপর কর্তৃত্ব করেন। সুতরাং তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও কর্তৃত্ববাদ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। চীনে সান ইয়াং সেনের চাইতে মাও সে তুং-এর কদর বেশি এই কারণেই।
মার্কিন সাংবাদিকের এই বিশ্লেষণটি আমার ভালো লেগেছে। এশিয়ার রাজনীতিতে মানুষ একজন শক্ত নেতাকে পছন্দ করে এবং তার উত্তর পুরুষ পিতার মতো ব্যক্তিত্বশালী না হলেও তাকেই নেতৃত্বে দেখতে চায়। পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতেও দেখা গেছে সময় সময় কোনো কোনো দেশের মানুষও দুর্বল গণতান্ত্রিক নেতার বদলে সবল কর্তৃত্ববাদী নেতাকে পছন্দ করেন। যেমন ব্রিটেনের মার্গারেট থ্যাচার এবং ফ্রান্সের মার্শাল দ্য গ্যল। এখন প্রমাণিত, ভারতে নেহেরু ও তার কন্যা ইন্দিরার প্রায়-কর্তৃত্ববাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী না হলে আধুনিক গণতান্ত্রিক ভারত গড়ে উঠত না, অর্ধশতাব্দীকালের বেশি টিকে থাকত না। এটা কমুনিস্ট দেশেও দেখা গেছে। সোভিয়েট ইউনিয়নে কট্টর কর্তৃত্ববাদী স্ট্যালিনের এবং চীনে মাও সে তুং এর মৃত্যুর পরই কম্যুনিস্ট শাসনব্যবস্থায় ভাঙন ধরে।
বালাদেশেও তাই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তার কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনা দলে এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় না এলে এবং ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী না হয়ে উঠলে বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতা এবং গণতন্ত্র (যেটুকুই থাকুক) থাকত না। খালেদা জিয়াকে হটিয়ে জামায়াত এতদিনে বিএনপির নেতৃত্ব (তারেক রহমানকে শিখণ্ডী খাড়া রেখে) এবং রাষ্ট্র ক্ষমতাও দখল করত। বাংলাদেশের শেয়াল-পণ্ডিতেরা যতই গুম্ম ঘোরান, এটাই হচ্ছে ইতিহাসের বাস্তবতা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটা সহজাত অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা আছে। এরিস্টটল দুর্বল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বলেছিলেন ‘মব রুল’ যে কোনো দেশের জন্যই মব রুল খারাপ। এজন্যই দেখা যায় যে সব দেশে গণতন্ত্র খুবই সবল, সেসব দেশেও ক্ষমতাহীন রাজতন্ত্রের একটা ছায়া গণতন্ত্রের মাথায় রাখা হয়। যেমন ব্রিটেন ও জাপান। দুটি দেশেই গণতন্ত্র সবল এবং স্থিতিশীল। দুটি দেশেই গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সংসদীয় গণতন্ত্রের মাথার ওপর রাজতন্ত্র রয়েছে। ব্রিটেনের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে আমেরিকা তার দেশের বিশালত্ব ও ভিন্ন সমাজব্যবস্থা বিবেচনা করে ব্রিটেনের সংসদীয় প্রথা অনুসরণ না করে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। তারা রাজতন্ত্রের ছায়ার বিকল্প হিসেবে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতিকে ব্যবহার করেছে।
ফ্রান্সে গত শতকে যখন সংসদীয় গণতন্ত্র মব রুলে পরিণত হয়েছিল, প্রতি তিনদিনে একটি সরকারের পতন ঘটছিল, ফ্রান্সে দেখা দিয়েছিল অব্যবস্থা, তখন অবসর জীবন থেকে ফিরে এসে জেনারেল ফ্যাগল পার্লামেন্ট ভেঙে প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা প্রবর্তন করে নিজের হাতে ক্ষমতা নিয়েছিলেন। অবশ্য পাকিস্তানের বা বাংলাদেশের জেনারেলদের মতো বন্দুক হাতে ক্ষমতা নেননি, গণভোট (আইয়ুব ও জিয়ার গণভোট নয়) অনুষ্ঠান করে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। আবার গণভোটের রায় মেনে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।
সবল নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কেন, সব ব্যবস্থাতেই প্রয়োজন। ভারতের কংগ্রেসে নেহেরু-গান্ধী পরিবার জোর করে নেতৃত্বে থাকেননি। কংগ্রেসের নেতারাই দলকে শক্তিশালী রাখার জন্য এই পরিবারকে নেতৃত্বে টিকিয়ে রেখেছেন। ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেসে এই পরিবারের রাজত্ব শেষ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানো হয়েছিল নরসীমা রাওকে। ব্যক্তিত্বহীন এই নেতার সময়েই কংগ্রেসের পতন ঘটে। আবার সোনিয়া গান্ধীকে নেতৃত্বে টেনে আনতে হয়। এবারের সাধারণ নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা তার স্থলাভিষিক্ত করার একজন নেতা খুঁজে পাচ্ছেন না। রাহুলকেই নেতৃত্বে ধরে রাখার জন্য তার কাছে, এমনকি তার বোন প্রিয়াংকার কাছে ধরনা দিচ্ছেন। মিয়ানমারে দেখা যায়, স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে জননেতা আউং সানকে তার মন্ত্রিসভার সকল সদস্যসহ হত্যা করা হয়। তার কিছুকাল পর শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী সামরিক শাসন। দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতারা বুঝতে পারেন, তাদের আন্দোলন সফল করার জন্য একজন শক্তিশালী ও ক্যারিসমাটিক নেতার প্রয়োজন। এই নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। দীর্ঘ ৪০ বছর পর অনেক অনুনয়-বিনয় করে ব্রিটেনে প্রবাসী আউংসান-কন্যা অং সান সু চিকে তারা দেশে ফিরে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা ও তাতে নেতৃত্ব গ্রহণে সম্মত করান। অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও দেখা যায়, কিছুটা কর্তৃত্ববাদী অর্থাত্ সবল নেতৃত্ব না থাকলে সেই ব্যবস্থাতেও অরাজকতা দেখা দেয়। স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর আনদ্রোপভ হন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা। তিনি ছিলেন অসুস্থ ও ব্যক্তিত্বহীন। তার নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হলে সোভিয়েত ইউনিয়নেও অরাজকতা দেখা দিত। গরবাচেভ আমলের মতো সোভিয়েত প্রশাসন ও লালফৌজে মার্কিন-অনুপ্রবেশ সহজ হতো। কিন্তু আনদ্রোপভ ক্ষমতায় বসার কিছু দিনের মধ্যেই মারা যান। আনদ্রোপভের পর ব্রেজনেভ-ক্রুশভ শক্ত যৌথ নেতৃত্ব ক্ষমতায় না এলে গরবাচেভের আগেই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হতো। বর্তমানে পুতিনের মতো শক্ত নেতৃত্ব রাশিয়াতে আসায় দেশটি পতনের হাত থেকেও রক্ষা পেয়েছে। তার কর্তৃত্ববাদী শাসনকে পশ্চিমা শক্তিগুলো স্টালিনের স্বেচ্ছাচারী শাসনের সঙ্গে তুলনা করেন। কারণ, দেশটিতে অরাজকতা সৃষ্টিতে তারা আর সুযোগ পাচ্ছেন না। মার্কিন চক্রান্ত ব্যর্থ করে পুতিন ক্রিমিয়াকেও উদ্ধার করেছেন, সিরিয়ায় মার্কিন আগ্রাসন ব্যর্থ করেছেন।
বাংলাদেশেও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই ক্ষমতায় থাকা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার অর্থ দেশটিতে মুজিব ডায়নেস্টির প্রতিষ্ঠা নয়। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। শেখ হাসিনা এ সময় বিদেশে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কিছুকাল ছিলেন জোহরা তাজউদ্দীন এবং আবদুল মালেক উকিল। তারা সফল নেতৃত্ব দিতে পারেননি। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দূর করতে পারেননি। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে দলের প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ দলে ভাঙন ধরিয়ে সামরিক শাসকদের মদদে পালটা আওয়ামী লীগ গঠন করেন। দলের এই দুঃসময়ে আওয়ামী লীগ নেতারাই শেখ হাসিনাকে দিল্লি থেকে টেনে এনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বসান।
প্রথম দিকে শেখ হাসিনার নিজস্ব কোনো ভাবমূর্তি ছিল না। তার একমাত্র পরিচিতি ছিল তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। দেশের অনেকেই সংশয় প্রকাশ করে বলতেন, তিনি বেশি দিন দলের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র-ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। কেউ কেউ অবজ্ঞাভরে বলতেন, শেখ হাসিনা নেতা থাকলে আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এই শেখ হাসিনাই অল্পদিনের মধ্যে যে ম্যাচুরিটি অর্জন ও সবল নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তার শত্রুপক্ষও বিস্মিত। এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, শেখ হাসিনার বিকল্প কোনো নেতৃত্ব দেশে নেই। আর এই ম্যাচিউরড এবং সবল নেতৃত্বের ফলেই দেশে রাজনীতি স্থিতিশীল হয়েছে, বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল নেই এটা দুঃখজনক; কিন্তু হাসিনার শত্রুমিত্র সবাই এখন স্বীকার করছেন, হাসিনা-নেতৃত্ব একটু কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠাতেই তার নিজের দলের অস্তিত্ব টিকেছে এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে। ঘন ঘন সামরিক অভ্যুত্থান বন্ধ হয়েছে।
প্রচারণা চালানো হয়, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনে গণতন্ত্র নেই।’ দেশের পরিস্থিতি এই প্রচারণার বিপরীত। শেখ হাসিনা, আমার মতে, এখন অবশ্যই কর্তৃত্ববাদী। এই কর্তৃত্ববাদী বলতে আমি সবল নেতৃত্ব বুঝিয়েছি। বাংলাদেশে এই নেতৃত্বই জীবন বাজি রেখে গণতন্ত্রকে পাহারা দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে। ড. কামাল হোসেন বা ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতো নেতারা যদি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হতেন বা থাকতেন, তাহলে ভয়াবহ মৌলবাদী সন্ত্রাস ও হুমকির মুখে বহুদিন আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট বনি সদরের মতো নারীবেশে দেশ ছেড়ে পালাতেন।
বিখ্যাত ব্রিটিশ কম্যুনিস্ট নেতা এবং ‘ইন্ডিয়া টু ডে’ গ্রন্থের লেখক রজনীপাল দত্তের মতে, এশিয়ান দেশগুলো তাদের সমাজব্যবস্থার অনগ্রসরতা ও ভিন্নতার জন্যই ওয়েস্ট মিনিস্টার ডেমোক্রেসির হুবহু আদল তাদের পক্ষে অনুসরণ উচিত নয় এবং সম্ভবও নয়। এশিয়ান দেশগুলোর সমাজব্যবস্থার ভিত্তিতেই গণতন্ত্রের চরিত্র বা কাঠামো তৈরি হওয়া উচিত। পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের নেতাদের দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্র পরিচালনা; কিন্তু এশিয়ার দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক নেতাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে রাষ্ট্রের ও সমাজের সংস্কার ও উন্নয়নের স্বার্থে কিছুটা অভিভাবকত্বের ভূমিকাও গ্রহণ করতে হয়।
রজনীকান্ত দত্তের বর্ণিত গণতন্ত্রের জন্য এই অভিভাবকত্বকেই আমি বাংলাদেশের বেলায় কর্তৃত্ববাদ বলেছি। এটা ডিকটেটরশিপ বা স্বৈরাচার নয়। শেখ হাসিনার চরিত্রে সাহস, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা মিশ্রিত হয়ে যে ম্যাচুরিটি তৈরি হয়েছে সেটাই তার ব্যক্তিত্বকে কর্তৃত্ববাদী করে তুলেছে। এই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেশের জনগণও চায়। কারণ এই কর্তৃত্ববাদী বা সবলশাসন এই মুহূর্তে দেশকে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত রাখার জন্য একান্ত প্রয়োজন। এটা গণতন্ত্রের মাথার ওপর এক ধরনের পাহারার ছায়া। উপমহাদেশের দেশগুলোতে এই পাহারা যে একান্ত আবশ্যক এটা দেশের জনগণও বুঝতে পেরেছে।
গণতন্ত্রের সবল বা কর্তৃত্ববাদী নেতারা ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলে জানলেই স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগ করেন। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা, ফ্রান্সের দ্য গ্যল এবং গায়েনার জুলিয়াস নায়ারে। তারা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেননি। আমার ধারণা, শেখ হাসিনারও ক্ষমতালোভ নেই। দেশে গণতন্ত্র এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিরাপদ হয়েছে জানলেই তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন। এই মুহূর্তে তাকে ক্ষমতা থেকে হটাবার জন্য নানা চক্রান্ত চলছে। সেই চক্রান্ত সফল হবে মনে হয় না।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি