বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
মনি ভাইকে ভুলি নাই ভুলবো না
জয়নাল হাজারী
Published : Saturday, 14 December, 2019 at 9:09 PM, Update: 15.12.2019 10:17:39 AM

  মনি ভাইকে ভুলি নাই ভুলবো না১:
সত্তুরের নির্বাচন থেকেই খাজা আহম্মদের সঙ্গে আমার প্রার্থী বাছাই নিয়ে চরম বিরোধ দেখা দেয়। তখন খাজা আহম্মদ ফেনী জেলা আ.লীগের সভাপতি এবং আমি বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এই বিরোধ যুদ্ধের সময় এমনকি যুদ্ধের পরও চলতে থাকে। যুদ্ধের পর মনিভাই যুুবলীগ প্রতিষ্ঠা করলে তিনি আমাকে ফেনী যুবলীগের সভাপতি মনোনীত করেন। যুবলীগ প্রতিষ্ঠার দিনই ঢাকায় কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে আমি সম্মেলন স্থলে উপস্থিত ছিলাম। মনিভাই আমাকে জেলা সভাপতি করায় খাজা আহম্মদ মনিভাইয়ের উপরও খুব বিরক্ত হন। কিছুদিন পর বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেন এবং খাজা আহম্মদকে গভর্নর মনোনীত করেন। আমাকে বাকশালের সম্পাদক করা হয়। সবাই বুঝলেন এই সিদ্ধান্তে আমি খুশি নই। খাজা আহম্মদ তখন ঘোষণা দিলেন আমাকে ছাড়া ফেনী যাবেন না। তখন বঙ্গবন্ধু ও মনিভাইয়ের মধ্যেস্থতায় খাজা আহম্মদের সঙ্গে সমঝোতা হয় এবং আমরা দুজনেই এক সাথে ফেনীতে গেলাম। শুধুমাত্র আমার কারনেই খাজা আহম্মদ মনিভাইকে একেবারেই পছন্দ করতেন না। একদিন গভর্নরদের এক সমাবেশে মনিভাই ভাষণ দিলেন। ভাষণটি শুনেই খাজা আহম্মদ আল হেলাল হোটেলে আমার কাছে ছুটে এলেন এবং অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় বলছিলেন শেখ মনি আসলেই এক জাদুকরি প্রতিভা নিয়ে জন্মেছেন। আমি জীবনে এরূপ সারগর্ভ বক্তৃতা শুনিনি। একই কথা নোয়াখালীর গভর্নর নুরুল হক ও লক্ষ্মীপুরের গভর্নর রশীদ সাহেব ও বলেছিলেন। আমার মনে হয় ঐ ভাষণটির কথা আমু ভাই এবং কাদের সিদ্দিকিরও মনে থাকার কথা।
২:
১৪ই আগষ্ট বেলা দুইটায় মনিভাই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসে সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন সেনানিবাস থেকে কিছু খারাপ খবর এসেছে। চোখ-কান খোলা রাখবেন। নিরাপত্তা জোরদার করুন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যা তুই তোর কাজে যা। এসব নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। আমি দেখছি। বঙ্গবন্ধুর তাকে কেউ হত্যা করতে পারে এটা একেবারেই বিশ্বাস করতেন না। হয়তো বারবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার কারনেই এমনি হতে পারে। তবে সেদিন যদি বঙ্গবন্ধু মনিভাইয়ের কথাকে আমলে নিতেন তাহলে জাতির জীবনে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতো না। এটা মনিভাইয়ের দুরদর্শীতার বিষয় ছিল না। বিষয়টি সুনির্দিষ্ট তথ্যর ভিক্তিতেই মনিভাই বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করাতে পারেননি।
৩:
মনিভাইয়ের সঙ্গে খন্দকার মোস্তাকের চরম বিরোধ ছিল। মনিভাই খন্দকার মোস্তাককে সহ্যই করতে পারতেন না। মনিভাইয়ের সব সময় মনে হত খন্দকার মোস্তাক দেশ ও জাতির ক্ষতি করতেই তৎপর ছিল। যুদ্ধের সময়ও খন্দকার মোস্তাকের ভূমিকা ছিল খুবই ক্ষতিকর এবং দখলদারদের জন্য সুখকর। মনিভাই সেখান থেকেই খন্দকার মোস্তাকের বিরুদ্ধাচারণ করতে থাকেন। স্বাধীনতার পর মোস্তাকের কিছু তৎপরতা মনিভাই বঙ্গবন্ধুকে অবহিত করেছিলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু এটাকেও আমলে নেননি। এটাও যদি আমলে নিয়ে মোস্তাকের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন এবং তাকে ক্ষমতার বাইরে রাখতেন তাহলেও এই মহা বিপর্যয়টি ঘটতো না। এক পর্যায়ে বাকশাল গঠিত হবার পরে মনিভাই মোস্তাকের উপর চড়াও হয়েছিল। মোস্তাক কান্নাকাটি করে বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ে মনিভাইয়ের বিরুদ্ধে নালিশ করেন। এতে বঙ্গবন্ধু ক্ষুব্ধ হয়ে মনিভাইকে গালমন্দ করেন। এই সময়ে সাময়িকভাবে মনিভাইও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে দূরাত্ব সৃষ্টি হয়। তবে সেটি অল্পসময়ের মধ্যে নিরাশন হয়ে যায়।
৪:
খুনিরা সর্বপ্রথম মনিভাইয়ের বাসভবনে অভিযান চালায় এবং মনিভাইও তার গর্ভবতি স্ত্রীকে হত্য করে। বিশ্লেষকরা বলেছেন মনিভাইয়ের বাসায় প্রথম হামলা করার কারণ ছিল মনিভাই যদি খবর পেতেন বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা হয়েছে তাহলে মনিভাই হয়তো বা সেখানে প্রতিরোধ সৃষ্টি করতেন। তাই প্রথমেই কিছু ঘটবার আগেই মনিভাইকে হত্যা করা হয়। এছাড়াও খুনিদের পরিকল্পনায় আগেই ঠিক করা ছিল মনিভাইয়ের বাড়িতেই প্রথম অভিযান চালিয়ে সফলতা পেতে হবে। নইলে শেখ মনি বেচে থাকলে পরবর্তিকালে তিনি প্রতিশোধ নিবেন এবং আ.লীগ ক্ষমতায় চলে আসবে। সেই কারনেই মনিভাই নিহত হবার পরই খুনিরা বঙ্গবন্ধুসহ সারনিয়াবাত সাহেবেরে বাড়িতে আক্রমণ চালায় এবং সকল মানুষকে হত্যা করে। আমার ধারণা মনিভাইকে প্রথম খুন করার প্রধান কারণ খন্দকার মোস্তাক। সে জানতো শেখ মনি বেঁচে থাকলে প্রথমেই খন্দকার মোস্তাকের উপর আক্রামণ চালাবে তাই মোস্তাক তার ব্যক্তিগত শত্রুকে প্রথমেই সরিয়ে দেয়ার জন্য খুনিদের পরামর্শ দিয়েছিল এবং মোস্তাকের পরামর্শের কারনেই প্রথমেই মনিভাইকে হত্যা করা হয়। আসলে মনিভাই ছিলেন খুবই দুরদর্শী একজন নেতা। তাই তিনি বলেছিলেন মোনেমের হামলা দিয়ে মুজিবের প্রশাসন চলতে পারে না। আসলেই যদি প্রশাসন থেকে মোনেম বা আইয়িুব পন্থিদের সরিয়ে দেয়া হতো পরিস্থিতি ততটা ঘোলাটে হতো না। মনিভাই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে যুদ্ধে যেমন সফলতা অর্জন করেছেন তেমনি দেশের ভিতরে প্রতি বিপ্লবের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেন। তাই আমি মনে করি যতদিন আমাদের স্বাধীনতা অম্লান থাকবে ততদিন মনিভাইয়ের স্মৃতিও সকলের মাঝে উজ্জ্বল নক্ষেত্রের মত বিরাজ করতে থাকবে। “জয় বাংলা”
জয়নাল হাজারী
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ



সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি