বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
ওসির ফাঁসির দাবিতে উত্তাল এফডিসি
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Monday, 20 January, 2020 at 4:03 PM


ওসির ফাঁসির দাবিতে উত্তাল এফডিসিরাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকের (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আজমের ফাঁসির দাবি করেছেন তার সহকর্মীরা। সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ওসির ফাঁসির দাবিতে বিএফডিসির সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় তাদের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আজমের ফাঁসি চাই বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিএফডিসির সড়ক অবরোধ করে রাখে সহকর্মীরা। পরবর্তীতে পুলিশের আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে দেয়।

এর আগে রোববার রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল হাজতখানায় মারা যান আবু বক্কর। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি আত্মহত্যা। আবু বক্করের মৃত্যুর দাবিতে সোমবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিএফডিসির সব শ্রেণির কর্মচারীরা। অবরোধের কারণে হাতিরঝিল থেকে কারওয়ান বাজার সড়কের যানচলাচল বন্ধ ছিলো অনেকক্ষণ। আবু বকর ঢাকা সিটি নির্বাচনের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের চিঠি পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার সহকর্মীরা।

বিএফডিসি’র তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়নের নেত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমাদের কথা একটাই, কেন আবু বকরকে থানা হেফাজতে মরতে হলো? আমরা দোষীদের শাস্তি চাই। আবু বক্করকে গ্রেফতার করা হলো শনিবার, তখনও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। মামলা হয়েছে রোববার। মামলা হওয়ার আগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। জানালার গ্রিলের সঙ্গে কেউ চাদর দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তার শরীরে দাগ, গলায় চিকন দাগ, চাদর দিয়ে আত্মহত্যা করলে তার গলায় মোটা দাগ থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আবু বক্কর সরকারি কর্মকর্তা। ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেওড়াপাড়ার একটি কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এমন চিঠিও আসছে। তার সঙ্গে পুলিশ এমন আচারণ করলো কীভাবে? তার মানে পুলিশ তাকে হত্যা করে নতুন নাটক সাজিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

ফ্লোর সেটিং ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘থানায় মানুষ নিরাপদে থাকে। সেখানে কীভাবে আবু বক্কর মারা গেল? সুস্থ মানুষকে মোটরসাইকেল থেকে গ্রেফতার করলো। থানা থেকে তাকে লাশ হয়ে বের হতে হলো। থানা হেফাজতে এই মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।’ জুনিয়র ক্যামেরা সহকারী মোতালেব হোসেন বলেন, ‘আমরা ওসির বিচার চাই। কেন এমন ঘটলো, আমরা তা জানতে চাই।’ জামাল শেখ নামে অপর একজন বলেন, আমাদের সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতার করতে হলে অনুমতি লাগে। পুলিশ কেন তা নিল না? আর আমরা তো জানি, থানার কাস্টডিতে ফাঁসি দেবার মতো কোনও অবস্থা থাকে না। এছাড়া সেখানে সিসিটিভি থাকার কথা। তারপরও কীভাবে সে গলায় ফাঁস নিল?
বাবুর সহকর্মী ক্যামেরাম্যান জিএম সাঈদ বলেন, শনিবার বিকালে আমরা একসঙ্গে চা খেয়েছি। পরে শুনেছি তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। থানায় সে কীভাবে আত্মহত্যা করে? এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ সময় সেখানে উপস্থিত এফডিসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন সবাইকে শান্ত হতে অনুরোধ করে বলেন, খুব সেনসিটিভ ইস্যু এটি। আমাদের উত্তেজিত হলে চলবে না। সরকারের কাছে আমরা আমাদের দাবি জোরালোভাবেই তুলব। এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবের প্রজেকশন হলে আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বাবুর মৃত্যু নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন এফডিসির কর্মকর্তারা। পুলিশি হেফাজতে একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে মৃত্যু হয় সে প্রশ্ন তুলে বিচার চাওয়া হয়।

এফডিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার জানা মতে বাবু ভালো মানুষ ছিল। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনটি আমরা খতিয়ে দেখছি। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিক্ষুব্ধ সহকর্মীরা জানান, বিএফডিসির ফ্লোর ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবু বকর সিদ্দিকী। গত শনিবার সন্ধ্যায় অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে পুলিশ তাকে আটক করে। রোকসানা আক্তার মায়া নামে এক নারী তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেখানেই পুলিশি নির্যাতনে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন আবু বকর। এসময় তাকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) ইফতেখার ইসলাম অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু বকরকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা বলছেন, আবু বকরের গলায় কালো দাগ ও শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তবে এ মৃত্যুর বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম রোববার বলেছিলেন, ‘রাজধানীর সাতরাস্তা এলাকার একটি বাসা থেকে এক নারী ও তার স্বামী মিলে আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে থানায় ফোন করেছিল। এরপর থানা থেকে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিককে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই নারী নিজে বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।’ হাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বলেন, ‘এটি একটি আত্মহত্যা। কারণ আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। সেখানে পুরো ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।’


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি