শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২০
আজীবন বহিষ্কার ঢাবির ৬৭ শিক্ষার্থী
Published : Wednesday, 29 January, 2020 at 11:21 PM

স্টাফ রিপোর্টার : পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ৬৩ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ও মাদক সম্পৃক্ততার দায়ে চার শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদের পাশাপাশি ভর্তি জালিয়াতিতে আরও নয়জন এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৩ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সাত দিনের মধ্যে তা জানাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এই শিক্ষার্থীরা ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির মামলায় সিআইডির অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি তারা।
২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানা ও আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তাদের কাছ থেকে এটিএম কার্ডের মতো দেখতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে পরীক্ষা চলাকালে কানে আরেকটি ডিভাইস রাখা পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল।
ওইদিনই তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৩ ধারা এবং ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৯ (খ) ধারায় মামলা করে সিআইডি। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রশ্ন ফাঁসের দুই চক্র ভাঙার দাবি সিআইডির :  প্রায় দেড় বছর তদন্তের পর ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে জড?িত থাকার অভিযোগে গত বছর ২৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।
সিআইডির তৎকালীন প্রধান শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তদন্তের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াত চক্রকে চিহ্নিত করে। এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড মূলত দুইজন; নাটোর জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী এবং বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই চক্র দুইভাবে পরীক্ষায় অসদুপায়ে জড়িত ছিল জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, “একটি চক্র প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তা চড়া দামে বিক্রি করে। অন্যটি ক্ষুদ্র ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্নপত্র বাইরে পাঠানো ও ভেতরে পরীক্ষার্থীকে উত্তর বলে দেওয়ার কাজ করত।
“যে চক্রটি ছাপানো প্রশ্ন ফাঁস করেছিল, তারা মূলত এ প্রশ্ন দিয়ে সাভারের একটি বাসায় খুব অল্প সময়ে কোচিং করিয়েছিল। এখানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকাও নিয়েছিল। এর মূল হোতা ছিল ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদেরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশক্রমে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া গত ২৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও টিএসসিতে সাংবাদিকদের পেটানোর ঘটনায় দুইজন শিক্ষার্থীকে ছয়মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় বিভিন্ন সময় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তাকে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।




সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি