রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০
গরিবের আন্দোলন- বড়লোকের উৎসব
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
Published : Monday, 10 February, 2020 at 9:20 PM

ফেব্রুয়ারি মাস এলে আমি এখন উৎসাহিত হওয়ার বদলে উদ্বিগ্ন হই। টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র এবং নানা প্রতিষ্ঠান একযোগে এসে হামলা চালায় আমার ওপরে। দাবি, একুশের ওপর লেখা দিতে হবে, এ ইন্টারভিউ দিতে হবে। বক্তব্য দিতে হবে। একই সঙ্গে যদি আমাকে পাঁচটা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে হয় এবং পাঁচটা টেলি-ইন্টারভিউ দিতে হয় তাহলে যাই কোথা? আগে একদিনে একাধিক অনুষ্ঠানে যেতে পারতাম। তখন বয়স কম ছিল, এখন বয়স নব্বই ছুঁইছুঁই। এই বয়সে এন্তার বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়ার হিম্মত আমার নেই।
পাঠকরা বিশ্বাস করবেন, বিশ বছর আগে আমাকে একুশে উপলক্ষে একই দিনে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে এবং আমেরিকার নিউইয়র্কে দুই অনুষ্ঠানে হাজির হতে হয়েছিল? ফ্রাঙ্কফুর্টে একুশের ভোরে ছিল অনুষ্ঠান। সেটা সেরে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে দৌড়ালাম। সকালে নিউইয়র্কগামী কোনো ফ্লাইট নেই। দুপুরে আছে। সেটা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজের (পিআইএ)। মুক্তিযুদ্ধের পর এই আমার প্রথম পাকিস্তান প্লেনে চড়া। মনটা খচখচ করছিল। কিন্তু সেদিন নিউইয়র্কে যেতে হলে আর কোনো উপায় নেই। দুপুরে প্লেনে চাপলাম। সন্ধ্যার মধ্যে নিউইয়র্কে পৌঁছে গেলাম। ভাগ্য ভালো আমেরিকার সময় তখন ইউরোপের চেয়ে ছয় ঘণ্টা পিছিয়েছিল। তাই নিউইয়র্কের সভাটা ধরতে পেরেছিলাম। নিউইয়র্ক এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেখি, আমার বন্ধুরা (তাদের মধ্যে আমার বন্ধু প্রবাসী সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ ছিলেন) আমি সময়মতো এসে পৌঁছতে পারব কি না, তা ভেবে উদ্বেগে-উৎকণ্ঠায় কাঠ হয়ে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে পেয়ে প্রায় কাঁধে চেপে তারা দৌড়ালেন সভাস্থলে। আমার বক্তৃতা দেয়ার প্রাক্কালে শুরু হল সেই পুরনো রেটোরিক- এখন আপনাদের সামনে ভাষণ দেবেন অমর একুশে গানের স্রষ্টা, ভাষাসৈনিক, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা ইত্যাদি। গত প্রায় অর্ধশতক ধরে এই রেটোরিক আমাকে শুনতে হচ্ছে। আসলে বায়ান্নর ভাষাসৈনিক ও একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা কোনোটাই আমি নই। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় আমি কলেজের ছাত্র। আন্দোলনের সময় আর দশজন কর্মীর মতো সাধারণ কর্মী ছিলাম। কিন্তু এখন শীর্ষ নেতাদের পর্যায়ে উঠে ভাষাসংগ্রামী। ভাষাসৈনিক হয়ে গেছি। স্বাধীনতাযুদ্ধেও আমি বন্দুক হাতে যুদ্ধ করিনি। রণাঙ্গনে গেছি। তা-ও মুক্তিযোদ্ধাদের মোটিভেটেড করার দায়িত্ব নিয়ে। দেশের বাইরে নিরাপদ দূরত্বে বসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিখেছি। এই অবস্থায় আমাকে একজন কলমযোদ্ধা বলা চলে, তার বেশি কিছু নয়। এ কথা বহু অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বহুবার বলেছি। সে কথা তারা কানে তোলেন না। রেটোরিক আওড়াতে থাকেন। একুশে ফেব্রুয়ারি কাছে এলেই একুশের গান সম্পর্কে ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য আমার ওপর প্রায় হামলা শুরু হয়। বয়স যখন কম ছিল, তখন তাতে আনন্দবোধ করতাম, গর্ববোধ করতাম। এখন এ ইন্টারভিউ দেয়াকে উৎপাত মনে হয়। যদি ইন্টারভিউতে বৈচিত্র্য থাকত, সাক্ষাৎগ্রহণকারীরা ভাষা আন্দোলনের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি, ভাষার উন্নয়নে, জাতির উন্নয়নে একুশের কতটা অবদান ইত্যাদি প্রসঙ্গে কথা বলতে দিতেন তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু গত পঞ্চাশ বছর ধরে একই প্রশ্ন, একই জবাব। প্রথম প্রশ্নটি হল, এই অমর সঙ্গীতটি লেখার সময় আপনি কি জানতেন এটা আন্তর্জাতিক ভাষা সঙ্গীত হয়ে দাঁড়াবে? গানটি লেখার সময় আপনার মনোভাব কী ধরনের ছিল? আপনি কী পরিস্থিতিতে কীভাবে গানটি লিখেছেন? একুশ তারিখে পুলিশের লাঠিতে আহত হওয়ার পর জ্ঞানতাপস ড. শহীদুল্লাহ আপনার আহত পায়ের সেবা করেছিলেন, এ কথা কি সত্য ইত্যাদি। এসব প্রশ্নের জবাব আমি ভাষা আন্দোলনের আটষট্টি বছরে ৬৮ বারের বেশি দিয়েছি। বাংলা একাডেমি আমার এই গান-লেখা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছে, ‘একটি সঙ্গীতের জন্ম’। তারপরও এই কুড়ির শতকের গত দুই দশক ধরে ইন্টারভিউ বা বক্তৃতা দিতে গেলে একই অতীতের চর্বিত চর্বণ করতে হয়। নতুন কথা বলার সুযোগ পাই না। তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করারও অবকাশ পাই না, উৎসাহ পাই না। এ জন্য ভাষা আন্দোলন বা ভাষার সঙ্গীত নিয়ে যারা আমার সাক্ষাৎকার নিতে আসেন তাদের দোষ দেই না। ৬৮ বছর ধরে ভাষা দিবস একই গতানুগতিকভাবে পালনের জন্য তার মধ্যে যেমন একটি সীমাবদ্ধতা এসে গেছে, তেমনি অনুষ্ঠান কর্তা ও সাক্ষাৎগ্রহণকারীদের মধ্যেও সেই সীমাবদ্ধতা এসে গেছে। ভাষা দিবস উপলক্ষে প্রচারিত বেতার ও টেলিভিশনের প্রোগ্রাম লক্ষ করলে, সংবাদপত্রের ভাষার সাপ্লিমেন্টে আমাদের সবার লেখা পাঠ করলে একটা গতানুগতিকতা এবং চিন্তার সীমাবদ্ধতা দেখা যাবে; যা রূপান্তরের পথে ভাষা আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সহায়ক নয়। এখন একুশের সরকারি-বেসরকারি যে কোনো অনুষ্ঠানে যাই, মনে হয় এটা উৎসব। কোনো আন্দোলন নয়। বাঙালির ঈদ ও পূজার মতো উৎসব। পার্থক্য ঈদ ও পূজায় সাম্প্রদায়িকতা আছে। ভাষা উৎসবে তা ছিল না। একটা সর্বজনীনতা ছিল ভাষা দিবস পালনে। বর্তমানে এ দিবসটিতেও সাম্প্রদায়িকতার রক্ত চড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে- বিশেষ করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে গিয়ে (কয়েক বছর আগে) ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে দেখি, ভাষা আন্দোলনের কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে কোরআন পাঠ দ্বারা অনুষ্ঠান শুরু এবং মিলাদ পাঠ ও মোনাজাত দ্বারা অনুষ্ঠান শেষ করা হচ্ছে। মাঝখানের সময়টুকুতে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে গতানুগতিক আলোচনা। অনুষ্ঠানে কোরআন পাঠ ও মোনাজাত পর্বে অমুসলিম ছাত্রছাত্রীরা পাশের কক্ষে বসে আলোচনা পর্বের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম। বলেছিলাম, বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানের জন্য ধর্মীয় উৎসব বহু আছে। সেখানে আমরা প্রাণভরে কোরআন, গীতা, বাইবেল পাঠ করতে পারি। কিন্তু আমাদের জাতীয় উৎসব- পয়লা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শারদ ও নবান্ন উৎসবকে সাম্প্রদায়ীকরণ, ধর্মীয়করণ জাতীয় ঐক্য ও ঐতিহ্যের জন্য এক সর্বনাশা পথ। ইদানীং আমার মনে আরেকটি চিন্তার উদয় হয়েছে। বাংলাদেশে একুশের চরিত্র মারাত্মকভাবে বদলে গেছে। একুশ এখন আর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নয়, একুশ এখন সরকারি এস্টাবলিশমেন্টের দ্বারা আয়োজিত একটি প্রথাসিদ্ধ উৎসব। আগে সাধারণ মানুষ ছিল ভাষা দিবস উদ্যাপনের উদ্যোক্তা। এখন সৈন্য ও পুলিশবেষ্টিত যে সরকারি উৎসব হয়, তাতে জনগণ দর্শক। ভাষাসংগ্রামের হাতিয়ারকে জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে শাসক সম্প্রদায় তাকে নিজেদের জন্য উৎসবের উপাচারে পরিণত করেছেন। এই উৎসবে আমরা একদিনের জন্য বাঙালি হই। তারপর আবার পশ্চিমা সাহেব হয়ে যাই। আগে একুশ ছিল একটি চলমান আন্দোলন। জনগণ ছিল তার বিধায়ক। লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশকে শুধু নামে রাষ্ট্রভাষা করা নয়; তাকে কাজে রাষ্ট্রের ভাষা করা। তাকে ব্যবহারিক ভাষা, শিক্ষার ভাষা, বিজ্ঞানের ভাষা করে তোলা। সমাজের উচ্চ-নিু সবার জন্য একটি উন্নত মুখের ভাষা করে তোলা। বাংলাদেশের কোনো সরকারই সেদিকে দৃষ্টি দেয়নি। রাষ্ট্রভাষা করার নামে এটা এখন নব্যধনী ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির জন্য উৎসবের ভাষা। এখন আর এই দিবস পালনে স্বতঃস্ফূর্ত জনগণ নেই। মধ্যরাতের গণজয়ধ্বনি নেই। প্রভাতফেরি নেই। খালি পায়ে হেঁটে গিয়ে শহীদদের মাজারে পুষ্পস্তবক দেয়া নেই। গবেষণার মাধ্যমে বাংলাকে সর্বকাজে ব্যবহারের পন্থা বের করার প্রচেষ্টা নেই। শহীদদের যথার্থ স্মরণ নেই। এখন একুশ রাষ্ট্রীয় উৎসব। শহীদ মিনারে এসে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহীদ বরকতের মা বা অন্য কোনো শহীদের মা নন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন, মিনারে মাল্যদান করেন, কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি অথবা প্রধানমন্ত্রী। ভাষা আন্দোলনের সঙ্গীতটি এখনও গাওয়া হয়। কিন্তু আলতাফ মাহমুদের সেই কালজয়ী সুর আধুনিক পাশ্চাত্য যন্ত্রের বাজনায় তার প্রাণ হারায়। নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে সেই গান শোনেন দেশের মানুষ। অনেক পণ্ডিত বলেন, কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রামের তত্ত্বটি অকেজো হয়ে গেছে। আমি পণ্ডিত নই। আমার ধারণা, এই শ্রেণিসংগ্রাম এখনও চলছে। তবে তার রূপান্তর ঘটেছে। আগে শ্রেণিসংগ্রাম ছিল শ্রমিকদের উৎপাদন যন্ত্র অধিকার নিয়ে। বর্তমানে যুদ্ধ সেই উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি অধিকার করা নিয়ে, ধনবৈষম্য ও শ্রেণিবৈষম্য এখন আরও বেড়েছে। তার বিরুদ্ধে নিউওয়ার্কিং ক্লাস এখনও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি বলেই ধনতন্ত্রের এত বাড়বাড়ন্ত। তার ওপর ওয়ার্কিং ক্লাসও দ্বিধাবিভক্ত। মার্কসের আমলের ওয়ার্কিং ক্লাসের মধ্য থেকে একটি হোয়াইট কলার ওয়ার্কিং ক্লাসের আবির্ভাব ঘটেছে। এদের জন্মের কারণ, উৎপাদনে জনশক্তির বদলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রশক্তির আবিষ্কার। হোয়াইট কলার ওয়ার্কিং ক্লাসের ভূমিকা শ্রমিক স্বার্থের বিরোধী। বাংলাদেশে অবশ্য তাদের আবির্ভাব এখনও ব্যাপকভাবে বাড়েনি। কিন্তু নব্যধনীদের আবির্ভাব এবং অবাধে লুটপাটের সুযোগ পাওয়ায় দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অবস্থাও ক্ষয়প্রাপ্ত। তারই প্রতিফলন ঘটেছে আমাদের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোয়- তা শোকের হোক অথবা উৎসব হোক। একটি প্রমাণ পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন (১০ জানুয়ারি , ১৯৭২) উপলক্ষে এ বছর ১০ জানুয়ারির অনুষ্ঠানটি। আমি দেশে থাকি না, তাই অনুষ্ঠানটি দেখিনি। এক বিদেশি বন্ধুর মুখে অনুষ্ঠানটির সমালোচনা শুনে পরে দেখেছি এবং আহত হয়েছি। বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা। বিজয়ীর বেশে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এত বছর জনগণ সাধারণভাবে দিবসটি পালন করেছে। তাতে জাঁকজমক ছিল না। ছিল ভক্তি ও শ্রদ্ধার আবেগ। এখন বহু অর্থ ব্যয় করে আলোছায়ার খেলায় বঙ্গবন্ধুকে একটি লাল আলোর গোলবৃত্ত বানিয়ে যা দেখানো হল, তাতে কি বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানানো হয়েছে, না তাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে? নাকি এটি আলোছায়ার প্রকৃত অনুষ্ঠান হয়েছে? জানতে ইচ্ছে করে, এ অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা কাদের? বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা নিবেদনের নামে এই ছেলেমি কাজের? আমাদের আঁতেল আমলাদের কি? ইংরেজিতে একটা কথা আছে। আমলারা যদি সংস্কৃতির মালায় ছড়ি ঘোরায়, তা প্রহসনে পরিণত হয়। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেমন ঐতিহাসিক ঘটনা, ১৯৪৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী অধিনায়ক হিসেবে জেনারেল দ্যগলের মুক্ত প্যারিসে আগমন তেমন ঘটনা। লক্ষ লক্ষ মানুষ ‘ভিভালা ফ্রান্স’ স্লোগান তুলে তাকে সংবর্ধনা জানিয়েছিল। অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে গণযুদ্ধে বিজয়ী মাও সে তুংয়ের নানকিংয়ে (চীনের তখনকার রাজধানী) প্রবেশের সময়। দ্যগল অথবা মাও সে তুংয়ের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আলোছায়ার খেলা দেখানো হয় না। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের স্ট্যাচুতে মাল্যদান করে। সারা দিন ধরে বাজতে থাকে তাদের ভাষণ। কবিরা কবিতায়, গায়করা গানে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে। কেন, আমাদের সংস্কৃতির সরকারি গার্ডিয়ানেরা কি বেইজিংয়ের তিয়ানমিয়ান স্কয়ারে মাও সে তুংয়ের বিশাল স্ট্যাচুর সামনে তাকে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কোনো অনুষ্ঠানেরই খবর রাখেন না? কার্ল মার্কসের শ্রেণি সংগ্রামের কথায় আসি। বাংলাদেশেও সবার অলক্ষ্যে এই সংগ্রাম চলছে। কারণ, শ্রেণি-বিভাজন, ধনবৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। ধর্ম উৎসব ও জাতীয় উৎসবও তাই দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। যেমন: বড়লোকের ঈদ ও গরিবের ঈদ, তেমনি বড়লোকের ও গরিবের একুশে ফেব্রুয়ারি। বড়লোকের একুশে অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদরা আসেন না। বড়লোকের ছেলেরা ইংরেজিও হিন্দি মিলিয়ে উচ্চারণ বিকৃতি ঘটিয়ে বাংলা বলেন। গরিবের ঘরে এখনও প্রকৃত বাংলা ভাষা ও বাংলা উচ্চারণ বজায় রয়েছে। রাজধানীর বাইরে একুশের এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি সেখানে শহীদ রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত সবাই উপস্থিত। আউল-বাউল সহজিয়া গানে শহীদদের সম্মান জানানো হচ্ছে। সবই আসল বাংলা বলছে। তাতে গ্রাম্যতা আছে। মুম্বাইয়া বিকৃতি নেই। গরিবের একুশের দাবি, বাংলাকে সরকারের সব কাজ-কর্মে ব্যবহারের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কর। বাংলাকে ব্যবহারিক ভাষা বিজ্ঞানের ভাষায় উন্নীত করো। প্রবাসে বাঙালি ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখার কাজে সরকারি সাহায্য জোগাও। বাংলা হোক ইংরেজি, ফরাসি ভাষার মতো উন্নত ভাষা। এই দাবি যতদিন পূরণ না হয়, ততদিন ভাষা আন্দোলন একটি চলমান আন্দোলন হিসেবে থাকা উচিত। হয়তো দেশের সাধারণ মানুষই একদিন সেই আন্দোলনকে আবার জাগাবে। যতদিন তা না হয়, ততদিন বড়লোকদের ঈদের মতো বড়লোকদের ভাষা দিবসের উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পুলিশ পাহারা ও নিরাপত্তা-বলয়ের বাইরে থাকবে জনগণ। এখন তাদের প্রাণের স্পর্শ থাকে না শ্রেণি-বিভাজিত সমাজে বড়লোকদের কোনো উৎসবেই। হোক তা জাতীয় উৎসব। তাকে কী?


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি