সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সানি লিওনের চেয়েও চরিত্রহীন করোনার কাছে যুদ্ধবাজরা অসহায়
পীর হাবিবুর রহমান
Published : Wednesday, 22 April, 2020 at 9:56 AM

করোনার অভিশাপের মহাপ্রলয়ে মানবজাতির জীবনে নেমে আসা ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা থামছে না। ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি প্রাণ নিভে গেছে। বাঁচার লড়াইয়ে আক্রান্ত প্রায় ২৫ লাখ। নীরব নিস্তব্ধ পৃথিবীজুড়ে বেঁচে থাকার আকুতি, স্বজন হারানোর মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির আর্তনাদ কবে থামবে কেউ জানে না। আতঙ্ক ভয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা মানুষকে দমবন্ধ অসহায় জীবন থেকে মুক্তিও দিচ্ছে না। সহজে দেবে তার আলামতও নেই। বিশেষজ্ঞরাও দেখছেন না। ১৩বার চরিত্র পাল্টেছে করোনা। এমন চরিত্রহীন ভাইরাস কখনো আসেনি। অনেকে রসিকতা করে বলেন পর্নোস্টার নায়িকা সানি লিওনেরও চরিত্র আছে, করোনার তাও নাই। বিশ্বের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এর কাছে অসহায়। বিপর্যস্ত। তাই বলে অনন্তকাল এভাবে চলে না। অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের ঘোর অন্ধকারেই করোনা-পরবর্তী কঠিন অর্থনৈতিক যুদ্ধের আওয়াজ উঠেছে। এ কঠিন সময়ে রাষ্ট্রগুলো তার জনগণের জীবনের নিরাপত্তার লড়াইয়ের সঙ্গে মানুষকে খাবার দিচ্ছে, অর্থনীতিসহ সব খাতে প্রণোদনাও দিচ্ছে। তবু খাবার, কাজের সংকটসহ দুর্ভিক্ষের মতো ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নও দেখছে পৃথিবী।

এ বিষাদগ্রস্ত পৃথিবীর মানবসন্তান হিসেবে অনেক রাষ্ট্রনায়কের প্রতি আজ ক্ষুব্ধ ব্যথিত আমার ভীষণ রাগ হচ্ছে। জানি আমার মতো কোটি মানুষের রাগে ক্ষোভে তাদের কিছুই যায় আসে না। জানি না করোনার মুক্তি তাদের মানবিক করবে, না বিজয়ের দম্ভে উল্লসিত করবে। তাদের পাথরের মতো শক্ত নীতির নিচে কি চাপা পড়ে যাবে এত মানুষের মৃত্যুর আর্তনাদ? গোটা পৃথিবীর শাসক শ্রেণির প্রতিই আজ আমার প্রতিবাদী রুদ্রমূর্তির একটাই প্রশ্ন, কে কত বেশি পারমাণবিক অস্ত্রে বড় যুদ্ধবাজ এই দম্ভ দেখিয়েছ অনেক! আজ করোনাভাইরাসের মৃত্যুযন্ত্রণা কবলিত পৃথিবীতে সাহস থাকলে অহংকার আর গৌরবের সঙ্গে বল দেখি কার কত শক্তিশালী চিকিৎসাব্যবস্থা? কার কত আইসিইউ বেড? ভেনটিলেটর? পিপিই কিট মাস্ক ল্যাব? উন্নত গবেষণাগার! যে চাইলেই যে কোনো মহামারী থেকে জীবন বাঁচানো যায়!


চাইলেই নাকি পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখ, যে কোনো দেশ ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পার? লাখে লাখে মানুষ মুহূর্তে সামরিক অভিযানে শেষ করে দিতে পার? অর্থনৈতিক অবরোধের নামে এনে দিতে পার বিপর্যয়! জাতিসংঘকে দুর্বল করে রাখতে পার, কই আজ মানুষ বাঁচাতে পার না কেন? মুহূর্তেই দিতে পার না চিকিৎসা বেড, চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষার রিপোর্ট, আইসিইউ বেড, ভেনটিলেটর? লাশের প্যাকেট! এমনকি কবরের জায়গা? বোমারু বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে মানুষের রক্তে ভাসাও জনপদ! আজ একটা ভ্যাকসিন বা ক্যাপসুল দিতে পার না মানুষ বাঁচাতে? প্রতাপশালী রাষ্ট্রের দাম্ভিক নায়কদের পাগলাটে হুঙ্কারে কেঁপে ওঠে পৃথিবীর ভূমি! কই একটা ভ্যাকসিন পাঠাও দেখি আজ! ভেনটিলেটর পিপিই মাস্ক দাও জাহাজ ভরে? নিজেদের অসহায়ত্বের করুণ অবর্ণনীয় চেহারা কি দেখছ আয়নায়? করোনা যেমন তামাম দুনিয়াকে আজ এক মোহনায় মিলিত করেছে যুদ্ধে, তেমনি করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক লড়াই ও মানবিক পৃথিবী গড়তে তুমুল তাগিদ দিচ্ছে। কী শিক্ষা নেবে আজ লাশের পৃথিবীর সামনে?

এত সামরিক ব্যয় ও শক্তির মাঝে এক ছোট্ট জীবাণু ত্রাসের সৃষ্টি করে দেখিয়েছে জীবন রক্ষায় চিকিৎসা ও গবেষণা খাতে ব্যয়ে পৃথিবীর রাষ্ট্রনায়করা কতটাই না কৃপণ ও উদাসীন। জীবন হরণ তো অমানবিকতা। জীবন রক্ষাই মানবিকতা। ধ্বংসের শক্তি আছে রক্ষার নাই! করোনা নিয়ে কেউ বলছেন ভ্যাকসিন সেপ্টেম্বরে, কেউ বলছেন ১৮ মাসে; কেউ বলছেন দীর্ঘকাল এর সঙ্গে যুদ্ধ করেই আমাদের টিকে থাকতে হবে। মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। হয়তো করোনাকে পরাজিত করে মানুষই জয়ী হবে কিন্তু তার আগে কত প্রাণ শেষ হবে কেউ জানে না! বিশ্ব অর্থনীতি মহাবিপর্যয়ের মুখ দেখবে।

আমরা শত বছরের একেকটি মহামারীর ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিইনি। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তের ভয়াবহতা থেকে মানবতার পাঠ নিইনি। যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই- পৃথিবীজুড়ে ওঠা স্লোগানের মৃত্যু সেই কবে যুদ্ধবাজরা ঘটিয়েছেন। করোনার এই ভয়ঙ্কর অন্ধকার থেকে বের হয়ে এলে পৃথিবীর প্রতাপশালীরা বিশ্বনেতাদের নিয়ে কি মানবিক দুনিয়া গড়বেন মানবজাতির জন্য? যেখানে বিশ্বগ্রামের মানুষের খাদ্য শিক্ষা চিকিৎসা বাসস্থানসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবেন। নিরাপদ পৃথিবী হবে মানবজাতির জন্য? নাকি আরও বেশি জয়ের আনন্দে দাম্ভিক হিংস্র অমানবিক হবে?

করোনাকালেও আল্লাহর ঘর কাবা থেকে মক্কা-মদিনার মসজিদ বন্ধ করে দিলেও সৌদি শাসকরা অভুক্ত ইয়েমেনে হামলা চালায়! গির্জা মন্দির প্যাগোডা বন্ধ হলেও ইরানে অবরোধ চলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন দুঃসময়ে বন্ধ করে দেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার চাঁদা! অস্ত্র বিক্রি চলে! হুমকি-ধামকি পরাশক্তিদের মধ্যে সমানে। কানাডায় পুলিশের পোশাকে বন্দুকধারী গুলি করে। দেশে দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, শিশু ও মানুষ হত্যার মতোন সামাজিক অপরাধ ঘটে!

করোনাকালে আমরা দেখছি কীভাবে কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন ও মর্মান্তিক মৃত্যু কতটা আপনজনদের বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আজন্মের নিবিড় প্রেম মায়াদয়া স্নেহ মুছে যায়। আবার একই সঙ্গে দেখি পৃথিবীজুড়ে সহযোগিতা সহমর্মিতা হাত ধরাধরির মহান মানবিকতা। নির্ঘুম মানুষ মানুষের জন্য ছুটছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। চিকিৎসকরা জীবন দান করছেন যুদ্ধে। দানবের মৃত্যু ঘটিয়ে করোনার পরে এই মানবশক্তির উত্থান চাইছে মানুষ পৃথিবীজুড়ে। পৃথিবীর তাবৎ রাষ্ট্রনায়ক আজ তার জনগণের জন্য লড়ছে।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তাঁর সাহসী নেতৃত্ব প্রজ্ঞা দূরদর্শিতা মেধা ও পরিশ্রমে সর্বাত্মক লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা দেখছি তিনি প্রায় ১ লাখ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন সব খাতকে। অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা, খাদ্য সংকট মোকাবিলা ও দুর্ভিক্ষ যাতে ছোবল না মারে তার লড়াই শুরু করেছেন। ৫ কোটি মানুষকে খাবার দেওয়ার পাশাপাশি সামনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়ির আঙিনাকেও উৎপাদনে ব্যবহার করতে বলেছেন। বোরো ধানের বাম্পার ফলন কাটা শুরু হয়েছে।

একসময় আমাদের তাই ছিল। বাড়িজুড়ে শাকসবজি ফলদ বৃক্ষ। আমরা তা ভুলে গিয়েছিলাম। ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষে রুটি খেতে কষ্ট হলেও আমরা অভাবে খেয়েছি, আজ স্বাস্থ্যের জন্য খাই, এ কথা ভুলে গিয়েছিলাম। আমাদের জীবনমানও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। চাহিদা ভোগবিলাস কমিয়ে ফেলতে হবে। বিত্তবানদের সামর্থ্যহীনদের পাশে নিরন্তর থাকতে হবে। শেখ হাসিনার প্রতি জনগণ ভরসা আস্থায় লড়াইয়ে সমর্থন দিচ্ছে। এটা বৈশ্বিক সংকট। মানবজাতির লড়াই। আমাদের অনেকে ভিডিও বানাচ্ছেন, কবিতা লিখছেন, শপথে ফেসবুক ভাসাচ্ছেন, করোনায় বেঁচে গেলে নিজেকে বদলাবেন। আমি বলব, পাপ করিনি। আমাকে বদলাব না, আমার মতোই থাকব। আমার বিবেকের দায় থেকে সত্য উচ্চারণে আরও বেপরোয়া অপ্রতিরোধ্য হব। এই দমবন্ধ অসহনীয় বিষাদগ্রস্ত একাকিত্বের যন্ত্রণায় পুড়ে তৈরি হই। সমাজের অনিয়ম দায়িত্বহীনতা অযোগ্য অথর্ব ব্যর্থদের তামাশা, দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, লুটেরা ডাকাতদের দেশদ্রোহিতার বীভৎস চেহারায় দ্রোহী হই।

রাষ্ট্রের নানামুখী ব্যর্থতা ও অন্যায় অপরাধের যুগ যুগ ধরে চলা প্রশ্রয়ের চিত্র ভয়ঙ্করভাবে আলোড়িত করেছে। এ পেশায় মানিক মিয়া হতে এসেছিলাম বহুবার বলেছি। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সুবিধাবাদী স্বার্থান্ধ লোভী চরিত্র সব পেশায় অন্ধ দলকানা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। আজ মানিক মিয়ারা জন্ম নেয় না, নিতে দেওয়া হয় না। কেউ চাইলে একঘরে করে দেয় নষ্টচক্র। রাজদুর্নীতির জোয়ারে ভেসেছে সব।

ভারতে অরুন্ধতী রায় কি কঠিন ভাষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে বলেছেন, তাবলিগ নয়, তিনিই করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী। কারণ চীনের ভয়াবহতার কালে মুসলমানবিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করায় সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ব্যস্ত ছিলেন। দিল্লি পরাজয়ের পর দাঙ্গায় ব্যস্ত ছিল বিজেপি। শক্তিশালী মানবতাবাদী মার্কিন লেখক নোয়াম চমস্কি বলেছেন, ‘ট্রাম্প আবার বিজয়ী হলে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে।’ এটাকেই বলে সাহসী লেখক, লেখকের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের সুবিধা, কেউ তাদের মতের সঙ্গে একমত হোন বা না হোন। আমরা স্বাস্থ্য খাতের ভয়ঙ্কর লুটের পরিণতি আজ ভোগ করছি। কত আকুতি করেও বিচার পাইনি। তাদের শাস্তি হয়নি! দেশের অর্থ বিদেশে পাচার, ব্যাংক লুটটাও রুখতে পারিনি।

দুর্ধর্ষ সাহসী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বীরত্বের বাংলাদেশে সাহসী নেতা ও মানুষ আজ কই। সব পেশায় দলকানা দাসদের রাজত্ব। হাতে গোনা কজন ছাড়া বাকি সব লেখক ক্ষমতার পদলেহী, করুণা ও পদক ভিখেরি সুবিধালোভী। লেখক নয় স্তাবক। আমরা চোখের সামনে দেখলাম আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্লজ্জ ব্যর্থতা। প্রতিরোধের প্রস্তুতি গ্রহণ না করা। ইতালিফেরত দিয়ে শুরু, ছুটিতে অসচেতন বেটাগিরি জনতার গিজগিজ বাড়িফেরা, গার্মেন্ট মালিকদের ঘোষণায় স্রোতের মতোন ছুটে আসা! হাটবাজার সবখানে অসভ্য জনতার ঘোরাঘুরি, লাখো মোল্লার স্রোত সর্বনাশা করোনার সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে দিল! মাস্ক নিয়ে পর্যন্ত নির্দয় জালিয়াতি! পিপিই সংকট। মহাপরিচালক ‘ভুলবশত’ নকল মাস্ক সরবরাহ বলে জেএমআইয়ের অপরাধ ধামাচাপা দেন! রহস্যময়! দেশ এখন করোনার ভয়াল থাবায় পড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের দল। কারণ করোনার বিরুদ্ধে তারা সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে সফল।

প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিকে দেখলাম গাজীপুরের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চীন থেকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এন৯৫ মাস্ক ৪০ হাজার, সার্জিক্যাল মাস্ক, ডিজিটাল থারমোমিটার, কিটসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম এনেছেন। সেখানে ব্যর্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কি সব আবোল-তাবোল বকে! আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ফরমান জারি করে সত্যকে কবর দিতে চেয়েছে, চিকিৎসকদের নিপীড়ন দমন করতে চেয়েছে। এখন ক্ষমতার ফরমান দেয়!

প্রধানমন্ত্রী তো সংগ্রামের কঠিন সত্য দেখেছেন, তাই সত্য জানতে চান বলেই ভিডিও কনফারেন্সে ব্যর্থদের চতুরতা উন্মোচিত হয়। সাহসী সৎ দেশপ্রমিকরাই সত্য বলেন। ব্যর্থ চাটুকার অযোগ্য অসৎরাই সত্যকে ভয় পায়। এসব দেখে ও কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বহীন কথাবার্তা শুনেও, সমস্বরে লেখকরা বলতে পারিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! এসব ব্যর্থ মন্ত্রী ও অযোগ্য কর্তাকে বরখাস্ত করুন। আপনি ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন, জনগণ যুদ্ধ করে ওরা কলঙ্ক দেয়। ব্যর্থ অপদার্থদের শাস্তি, দক্ষ সফলদের পুরস্কার দিন। করোনার আড়ালে স্বাস্থ্য খাত ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র কিনা ভয় হয়।

‘রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে নেই, বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ সেদিন বলেছেন। হয়েছে বহু আগেই। আওয়ামী লীগের মতো দলে ও ক্ষমতায় স্বাধীনতা সংগ্রামী অভিজ্ঞরা, ’৭৫-পরবর্তী কঠিন দুঃসময়ের সশস্ত্র প্রতিরোধ ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের বীর যোদ্ধারা উপেক্ষিত, নির্বাসিত! কুড়িয়ে পাওয়া গণবিচ্ছিন্ন হঠাৎ নেতারা পুনর্বাসিত হলে হবে না কেন? এটা এবং আদর্শিক বামপন্থি রাজনীতির বিপর্যয় মানুষের কল্যাণ আনেনি। শেখ হাসিনার হাতও আরও শক্তিশালী হয়নি।

করোনাকালে চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ-সেনাবাহিনী, র‌্যাব, প্রশাসন রাজনৈতিক কর্মী মানুষ লড়ছে। কিন্তু দুর্বল ম্যানেজমেন্ট দৃশ্যমান হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খেলাফত নেতার জানাজায় লাখো মুসল্লির ঢল, নিষেধাজ্ঞাই অমান্য নয় ধর্মান্ধ শক্তির উন্মত্ত মহড়া। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে রাষ্ট্রের পরিণতি কী হবে তার আলামত দেখা যায়। দিল্লির তাবলিগ, তামিলনাড়ুর গরুর শেষকৃত্যে ধর্মান্ধ উগ্র হিন্দুদের জনস্রোত, হবিগঞ্জের পুণ্যস্নান, জর্জিয়ার ইস্টার উৎসবে খ্রিস্টানের ঢল, ‘যীশুই ভ্যাকসিন’ স্লোগানের পশ্চিমা চিত্রে- এমন অন্ধত্ব মানুষের জন্য অভিশাপ। ধর্মান্ধরা নিজে মরছে না সহস্র জনকেও আক্রান্ত করছে। ডিজিটাল মামলায় অনেককে নিপীড়ন করা যায়, চরিত্রহনন গুজব ছড়ানো যায়, কিন্তু ইউটিউবে যেসব মূর্খ কসম খেয়ে ওয়াজে করোনা আমাদের দেশে কারও হবে না, মুসলমান নয় বিধর্মীদের জন্য আল্লাহর গজব বলে ধর্মীয় আবেগে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের কয়েকটাকে গ্রেফতার করা হয় না কেন?

এখন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা চলমান যুদ্ধে বরেণ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে যেভাবে কমিটি করেছেন তেমনি মন্ত্রিসভা অভিজ্ঞ দক্ষ পরিশ্রমীদের নিয়ে সাজাতে হবে। নিজের কার্যালয়েও রাজনীতি এবং প্রশাসনকে সমন্বয়ের শক্তিশালী টিম তৈরি করতে হবে। করোনার পরের লড়াইয়ে অর্থনৈতিক যুদ্ধে জয়ী হয়ে দুর্ভিক্ষমুক্ত রাখতে প্রণোদনার একটি টাকা যাতে প্রকৃত জায়গা ছাড়া কোথাও না যায়, তার সঙ্গে ঘুষ দুর্নীতি ও অপচয় কঠোর হাতে দমন করতে হবে। জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এসব কার্যকরে ভূমিকা রাখতে হবে। চলমান ধান কাটায় ছাত্রলীগের মতো ছাত্রসমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। ধান দ্রুত না কাটলে আবার প্রকৃতির তা-বে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা। প্রকৃত কৃষকের হাতে যেন ধানের মূল্য যায়। মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ার হাতে নয়। স্বাস্থ্য খাতকে সামনে দুর্নীতিমুক্ত করে বরাদ্দ বাড়িয়ে ঢেলে সাজাতে হবে। যে দেশের ওষুধ বিদেশ যায় সে দেশে গবেষণায় বরাদ্দে বাজেট বড় হবে না কেন?

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি