মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২০
মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যু খবর একটি নাটক!
Published : Tuesday, 28 April, 2020 at 12:51 PM

জয়নাল হাজারী ॥
মুজিববর্ষেই মুজিবের দুই খুনি গ্রেফতার হয়েছে। করোনার আতঙ্গের মধ্যেও এই খবরটি সুখকর। ইতিমধ্যে একজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অপরজন মোসলেম উদ্দিন। তাকে নিয়ে নাটকের অন্তনাই। কেউ বলছে সে আগেই মারা গেছে অন্য খবররে বলছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমার বিশ্বাস সে জীবিত আছে এবং তাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে। আশাকরি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রকৃত ইতিহাস এই মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিনের কাছ থেকেই বেরিয়ে আসবে। আগের অনেক কথাই আমার ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হবে। মাজেদই মোসলেম উদ্দিনের প্রকৃত অবস্থান এবং তার বিশ বছরেরও অধিককাল ভারতের অবস্থানের বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছে। মাজেদের কারণেই কেবল মোসলেম উদ্দিন গ্রেফতার হয়েছে। মাজেদের তথ্যটি কোন অবস্থাতেই মাজেদ মিথ্যা বলতে পারে না। সুতরাং মোসলেম উদ্দিন আগেই মারা গেছে এটি আমি একেবারেই বিশ্বাস করতে চাই না।

এই মোসলেম উদ্দিনই সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে গুলি করেছিল। তার গুলিতেই বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছেন। ফারুকসহ অন্যএকজন বঙ্গবন্ধুকে গুলি করার জন্য এগিয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর কথার সামনে তারা গুলি করতে সাহস পায়নি এবং পেছন দিকে চলে আসে। তখনই মোসলেম উদ্দিন এগিয়ে এসে বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি গুলি করতে থাকে। সে কোন কথাই তখন বলেনি। এরা তো সবাই মাতাল ছিল এটা খুনিদের অনেকেই বার বার বলেছে। এখন মোসলেম উদ্দিনের ব্যাপারে পুলিশ চুপচাপ, কোন কথাই বলছে না। খবরে বলা হচ্ছে সে বাংলাদেশের পুলিশের কাছেই আছে।

কিন্তু পুলিশ সে কোথায় আছে তাকে নিয়ে কি করা হচ্ছে কিছুই বলছে না। তবে এটা নিশ্চিত তাকে ব্যাপক জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করা যায় এর কাছ থেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রকৃত ইতিহাস বেরিয়ে আসবে। তবে  দ্রুততম সময়ে এর ফাঁসি কার্যকর করা প্রয়োজন। বছরের পর বছর এরা তো স্বপ্ন দেখেছে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হবে। আবার তারা ক্ষমতায় আসবে। মোসলেম উদ্দিনের ব্যাপারে কোন কিছুই যেন অসম্পূর্ণ না থাকে অবশ্যই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমি চাই মোসলেম উদ্দিনের ব্যাপারে সব কিছু খোলসা করে বলা হোক এবং ঈদের আগে তার ফাঁসি কার্যকর করা হোক।

আমরা মোসলেম উদ্দিনের হস্তান্তর সম্পর্কে যে তথ্য পেয়েছি তা পাঠকের অবগতির জন হুবহু তুলে দিলাম।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরেক খুনি রিসালদার মুসলেহ উদ্দিনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। মঙ্গলবার তারা জানায়, সীমান্তের কোনো একটি স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়। তবে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা। তিনি বলেছেন, তারা বিষয়টি শুনেছেন, কিন্তু তাদের কাছে এ সম্পর্কে কোনো আপডেট নেই।

ভারতীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা অভিযানটি পরিচালনা করায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সে সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। এতে আরও বলা হয়, এর আগে মুসলেহ উদ্দিনের ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হলে তাতে কিছু বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ওই ছবি প্রকাশের পর বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছিলেন, মুসলেহ উদ্দিন কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এনডিটিভির খবরে উল্লেখ করা হয়, এর আগে গ্রেফতার বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদই রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানান।

এদিকে ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, সম্ভবত মোসলেম উদ্দিনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে অপেক্ষায় আছে। এর আগে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, ভারতের গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় মোসলেম উদ্দিনকে উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি গ্রাম থেকে আটক করা হয়। এর আগে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি আবদুল মাজেদকে ৭ এপ্রিল গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে দেওয়া পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, সে দেশের গোয়েন্দারাই মাজেদকে আটক করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেন। এরপর ১২ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়। মাজেদ ২২-২৩ বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। তিনি সে দেশের পাসপোর্টও নিয়েছিলেন।

মোসলেম উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা সত্য হলে এখন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত চার খুনি পলাতক থাকলেন। তারা হলেন খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী ও এ এম রাশেদ চৌধুরী। এ ছাড়া খুনিদের মধ্যে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি