বুধবার, ২৭ মে, ২০২০
কার্ড ছাপাননি, শুভেচ্ছা বিনিময় অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Saturday, 23 May, 2020 at 4:45 PM

রতি বছর রমজান মাসজুড়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি নানাজনের কাছে পাঠানো হয় ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড। ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। তবে এবারের করোনা পরিস্থিতিতে ইফতারের কোনো আয়োজন হয়নি, হয়নি ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড ছাপানো। এমনকি ঈদের দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় অনিশ্চিত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্তত তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বরাবরের মতো প্রতি ঈদের দিন সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, বিচারক, বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর তেমন কোনো শিডিউল নেই।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতে সকল সাধারণ জনগণ, নেতাকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। কিন্তু এবারের করোনা পরিস্থিতিতে আপাতত প্রধানমন্ত্রীর কোনো শিডিউল এখন পর্যন্ত নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যতটুকু করা সম্ভব সেটাই হয়তো হবে। করোনাভাইরাসের ধাক্কায় এবার পাল্টে যাচ্ছে রাজনীতিকদের ঈদ উদযাপন। অতীতের সকল ঈদে নেতাকর্মী, সমর্থক, জনগণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করলেও, এবার সেই আনন্দে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক দূরত্ব। আর তাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ঈদ কাটছে নেতাকর্মী ছাড়াই।

নেতারা বলছেন, রাজনীতিবিদদের ঈদ হলো দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করার। বিভিন্ন কারণে রাজধানীতে থাকলেও ঈদের আগে সকলের মতো ছুটে যেতেন গ্রামে। সেখানে মানুষের সঙ্গে উদযাপন করতেন ঈদের আনন্দ। আর এবার কেউ কেউ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করলেও সামাজিক দুরত্বের কারণে আগের সেই আমেজে উদযাপন করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে না পারলেও তারা মানুষের সঙ্গে আছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তারা নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাদেরকে নানাভাবে সহযোগিতাও করছেন। অনেকই এরই মধ্যে কয়েকবার এলাকায়ও গিয়েছিলেন। সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে নানান সহযোগিতাও করেছেন। আবার যারা যেতে পারছেন না তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ঈদের উপহারও পাঠাচ্ছেন ।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা শুধু নয়, সারা দুনিয়ার মুসলমানরা এ ধরনের ঈদ শত বছরে বা হাজার বছরেও পালন করেছে কিনা জানা নাই। এবারের ঈদতো উৎসব নয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া। ঈদটা সকলের জন্য নিরানন্দের যেখানে লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত, এতে আতঙ্কিত।

বরাবরের মতো প্রতি ঈদের দিন সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মী, বিচারক, বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর তেমন কোন শিডিউল নেই।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতের সকল সাধারণ জনগণ, নেতাকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কূটনৈতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন কিন্তু এবারের করোনা পরিস্থিতিতে আপাতত প্রধানমন্ত্রীর কোনো শিডিউল এখন পর্যন্ত নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যতটুকু করা সম্ভব সেটাই হবে। আবার এবারই প্রথম কোনো ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড করা হয়নি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে।

চলমান করোনাকালীন সময়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণার শুরু থেকেই নিজের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাসায় অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রতিবার ঈদের আগে নির্বাচনী এলাকায় থাকলেও এবার সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি বাসভবনেই কাটবে তার ঈদ। অন্যদিকে বাসা থেকেই নিয়মিত নেতাকর্মীদের খোঁজ রাখছেন তিনি। নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য ঈদের উপহারও পাঠিয়েছেন তিনি।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা যারা জনপ্রতিনিধি, আমরা কখনোই জনগণ থেকে আলাদা না। জনগণের সঙ্গেই আছি। আমাদের হয়তো শারীরিক দূরত্ব আছে কিন্তু মানসিক কোনো দূরত্ব নেই। আমরা সবসময় জনগণের কল্যাণের জন্য নিজেদের নিয়োজিত রেখেছি। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই কাজগুলো করে যাচ্ছি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আমাদের শারীরিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানসিকভাবে আমরা আরও কাছাকাছি চলে গেছি।

সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের বাইরে না। যেখানে এই ভয়াবহ ভাইরাস পরিস্থিতিতে কোনো মানুষই স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ করতে পারছে না। সেখানে রাজনীতিবিদদের স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ করার সুযোগ নেই। আমরা বরাবরই মানুষের পাশে থাকি। এখনও মানুষের সঙ্গে আছি বিভিন্নভাবে, হয়তো ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে শারীরিকভাবে মানুষের সঙ্গে থাকতে পারছি না। সহযোগিতা ও সেবা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা মানুষের সঙ্গে আছি। এবারের ঈদে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, কোলাকুলি করা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এটি একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট, কষ্ট হলো আমাদের বাধ্য হয়ে তা মেনে নিতে হবে সবাইকে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, এবারের ঈদে উৎসবমুখর পরিবেশ নেই। এটা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া কিছুই হবে না। যেহেতু সারাবিশে কোভিড-১৯ এর কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত, বাংলাদেশের মানুষও একইভাবে একটা বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। এখানে সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে যাতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন না হয়। সে কারণে আমাদের দেশের যে চিরাচরিত সাংস্কৃতি, যে আমরা যে কোন উৎসব পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে করে থাকি। সে কারণে বেশির ভাগ মানুষ নাড়িরটানে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু এবার সেটা সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব মানার জন্য।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি