শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২০
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা করবেন
হাজারিকা অনলাইন ডেস্ক
Published : Thursday, 21 May, 2020 at 7:59 PM

একাটানা দীর্ঘদিন ঘরে থেকে ক্লান্ত আবার বাইরে বের হলেই বিপদ। যাদের রক্তচাপ ঊর্ধমুখী করোনাকালের এই দিনগুলোতে তাদের সমস্যা আরও বেশি। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে আচমকা বিপদে পড়ার ঝুঁকি থাকে। লকডাউনের ফলে মর্নিংওয়াক কিংবা হাঁটাচলাও সীমিত হয়ে গেছে। ফলে নিজেদের অজান্তেই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আবার এই নিঃশব্দ ঘাতকের তেমন কোনও নির্দিষ্ট উপসর্গও নেই। সেই কারণেই আচমকা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের সম্মুখীন হতে হয়।
ফলে লকডাউনের এই দিনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ম করে বাড়িতে থেকে হাঁটাহাঁটি ও হালকা এক্সারসাইজ করতেই হবে। তার সঙ্গে খাবারের ব্যাপারেও খেয়াল রাখা উচিত। রক্তচাপ বাড়লে বাড়তি নুন খাওয়ার ব্যাপারে নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়। অনেকে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে খাবারের তালিকা থেকে নুন ছেটে ফেলেন। এর ফলে সমস্যা আবার বাড়ে।

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, আজকাল আইসিইউতে থাকা রোগীদের অনেকেরই অসুস্থতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাইপোন্যাট্রিমিয়া। অর্থাৎ শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ ভীষণ ভাবে কমে গিয়ে সল্ট বা লবণের পরিমাণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে। আবার গরমের দেশে একেবারে নুন খাওয়া বন্ধ করলে এই সমস্যায় ঝুঁকি বাড়ে।

উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে যা জানতেই হবে


হাই ব্লাডপ্রেশার এমনই এক রোগ যে কোনও লক্ষণ ছাড়াই একে একে বিকল করে দিতে পারে হার্ট, ব্রেন, কিডনি, চোখসহ শরীরের নানান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। তাই কোনও শারীরিক অসুবিধা না থাকলেও বছরে এক বার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ব্লাড প্রেশার মেপে নেওয়া দরকার। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ রক্তচাপের শিকার। কিন্তু কারো কারো বেলায় দেখা যায় সেটা তারা জানেন না। হাইপারটেনশন থাকলে করোনার ঝুঁকি এড়াতে বাড়ির বাইরে যাবেন না, আর হাতে সাবান দেওয়ার মতো অভ্যাস মেনে চলতেই হবে। ঘাড়ে বা মাথায় ব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো অসুবিধা হলে ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

নিতান্ত দরকার না হলে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাওয়ার দরকার নেই। দীর্ঘ দিন ধরে যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের অবশ্যই নিয়ম করে হার্ট, কিডনি, চোখ পরীক্ষা করাতে হবে।

কী কী সমস্যা দেখলে সাবধান হবেন


রক্তচাপ বেড়ে গেলে মাথা, ঘাড় ব্যথা, মাথা ঘোরা, মেজাজ হারিয়ে বা কখনও দুর্বল বোধ করলে। সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসের কষ্ট ও বুক ধড়ফড় করে। আবার আপনা থেকে তা ঠিকও হয়ে যায়। বেশিরভাগ মানুষই এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। লাগাতার এই ভাবে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ নিয়ে জীবনযাপন করলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একে একে বিকল হতে শুরু করে।

আচমকা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, অর্থাৎ স্ট্রোকের জন্যও দায়ী রক্তচাপ। এছাড়া লাগাতার হাই ব্লাড প্রেশারের কারণে কিডনি বিকল ও চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
করোনাভাইরাস তথা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে এদের ফুসফুসের অবস্থা মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি ভীষণ ভাবে বেড়ে যায়। লকডাউনে বাড়িতে থাকার সময় অনেকে প্রেশার কমে গেছে ভেবে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেবেন না।

উচ্চ রক্তচাপ বশে রাখার উপায়


>>বাড়িতে থাকলেও নিয়ম করে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর হাঁটাচলা আর ব্রিদিং এক্সারসাইজ (নিঃশ্বাসের ব্যায়াম) করতে হবে। গোসল-খাওয়ার মতোই এক্সারসাইজকে জীবনের অংশ করে নিলে সুস্থ থাকবেন।

>>সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। আবার সোডিয়ামের অভাবেও আচমকা স্ট্রোক হতে পারে। প্রতিদিন সব মিলিয়ে ৫ গ্রামের বেশি নুন খাওয়া উচিত নয়। চানাচুর, চিপস জাতীয় প্রিজারভেটিভ দেওয়া খাবারে নুন থাকে তাই এসব খাবেন না।

>>পাকা কলা, কমলালেবু, বিনস, মসুর ডাল, পালং শাক, রাঙা আলু ইত্যাদিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। নিয়মিত এসব খেলে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে ওষুধ খেতে ভুললে চলবে না।

>>লকডাউনের কারণে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে বলে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা হচ্ছে। ছাদে, বারান্দায় বা ঘরের মধ্যে হাঁটাচলা করলে ঘুমনোর সমস্যা হবে না। ঘুমোতে যাওয়ার আগে উত্তেজক সিনেমা বা সিরিয়াল দেখা বন্ধ করতে হবে।

>>করোনার সংক্রমন প্রতিরোধে ঠিক মতো প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রেখেই এই ভাইরাসটির মোকাবেলা করুন।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি