শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২০
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীকে পাঠান নিজের ক্লিনিকে
Published : Thursday, 30 July, 2020 at 6:44 PM, Update: 31.07.2020 5:23:12 PM

 কুমিল্লা প্রতিনিধি ॥
 স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের নিজস্ব প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো, কর্মস্থলে সময় না দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখাসহ ডজনখানেক অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলীর বিরুদ্ধে।
সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলীর ব্যক্তিগত একটি প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। যেটির নাম 'লাকসাম মেটারনিটি ক্লিনিক'। ওই ক্লিনিকের কোনো লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। নেই কোনো ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ও নার্স। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীদের ব্যবহার করে সেবা নিতে আসা রোগীদের সরিয়ে আনছেন নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে। প্রতিদিনই এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিনা পয়সায় সেবাপ্রত্যাশীরা বাধ্য হয়ে তার ক্লিনিকে যাচ্ছেন। সেখানেও মানসম্মত সেবা মিলছে না।
জানা যায়, গত বছরের জুলাইয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডা. আবদুল আলী। তার আগে লাকসাম শহরের বাইপাসে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ঘোষিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে 'লাকসাম মেটারনিটি ক্লিনিক' চালু করেন তিনি। অন্য একটি ক্লিনিকের দুই ওয়ার্ডবয়কে নামমাত্র চেয়ারম্যান ও এমডি দেখিয়ে ক্লিনিকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদনে নিজেকে ক্লিনিকের খণ্ডকালীন গাইনি চিকিৎসক হিসেবে দেখান তিনি। ওই ক্লিনিকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলীর আপন ভাগ্নে কাইয়্যুম সৈকত ক্লিনিকের হিসাব শাখার মূল দায়িত্বে রয়েছেন, আরেক ভাগ্নে শাকিল মার্কেটিং কর্মকর্তা এবং বড় ভাই নজরুল ইসলাম ক্লিনিকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো কর্মচারী তার ক্লিনিকে কাজ না করলে ডা. আবদুল আলী তাদের নানাভাবে হয়রানি করেন। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মচারীরা তার ক্লিনিকে না এলে ওইসব ক্লিনিক ও হাসপাতাল পরিদর্শনের নামে হয়রানি করেন। এ ছাড়া তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকেন না। বেশিরভাগ সময় তার মালিকানাধীন মেটারনিটি ক্লিনিকে অবস্থান করেন। বিভিন্ন উপজেলায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সিজার অপারেশন করতে যান। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১১ জুলাই লাকসাম আকবর সামছুন হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলীকে দিয়ে একটি
সিজার অপারেশন না করানোয় তিনি ক্ষিপ্ত হয়। তিনি ওই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অশালীন ভাষায় গালমন্দ করেন। শুধু তাই নয়, হাসপাতালকে বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকিও দিয়ে আসেন। ওই হাসপাতালে ডা. মশিউর রহমান বলেন, 'খুব ভোরে ডা. আবদুল আলী হাসপাতালে আসেন। আমি শুয়ে আছি। শুনছি নার্স ও কর্মচারীদের কে যেন গালমন্দ করছেন। পরে গিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে আমাকেও গালমন্দ করেন।' অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত রোগী পরিবহনে বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার নামে হাজার হাজার টাকা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত ২ জুলাই মনোহরগঞ্জের দেবপুর থেকে দরিদ্র মমিনুল হকের স্ত্রী জেসমিন আক্তার গাইনি সমস্যা নিয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তখন ডা. আবদুল আলী তাকে লাকসাম মেটারনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লাকসামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল মালিকের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলীর কাছে রোগীরা জিম্মি। প্রসূতিদের জোরপূর্বক সিজার অপারেশন করান তিনি। এ জন্য রোগীর কাছ থেকে তিন হাজার ৭০০ টাকা বিল নেওয়া হয়। কিন্তু আমরা কুমিল্লা কিংবা ঢাকা থেকে ভালো চিকিৎসক এনে এসব অপারেশন করালে তিনি ক্লিনিক ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে ডা. আবদুল আলী বলেন, 'মেটারনিটি ক্লিনিকের মালিক আমি নই। আমার কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিক নেই। পরিকল্পিতভাবে ও ব্যক্তিস্বার্থে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।'
এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান জানান, ডা. আবদুল আলীর বিরুদ্ধে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।


সম্পাদক : জয়নাল হাজারী।  ফোন : ০২-৯১২২৬৪৯
মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারী কর্তৃক ফ্যাট নং- এস-১, জেএমসি টাওয়ার, বাড়ি নং-১৮, রোড নং-১৩ (নতুন), সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
এবং সিটি প্রেস, ইত্তেফাক ভবন, ১/আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত।
আবু রায়হান (বার্তা সম্পাদক) মোবাইল : ০১৯৬০৪৯৫৯৭০ মোবাইল : ০১৯২৮-১৯১২৯১। মো: জসিম উদ্দিন (চীফ রিপোর্টার) মোবাইল : ০১৭২৪১২৭৫১৬।
বার্তা বিভাগ: ৯১২২৪৬৯, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ০১৯৭৬৭০৯৯৭০ ই-মেইল : [email protected], Web : www.hazarikapratidin.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি